Contact Now
Select your region
প্রাইভেট লিমিটেড কোম্পানির বার্ষিক কমপ্লায়েন্স | AGM, RJSC রিটার্ন, ট্যাক্স, VAT — বারিধারা ২০২৬
📋 কোম্পানি আইন ১৯৯৪ অনুযায়ী — বার্ষিক কমপ্লায়েন্স গাইড ২০২৬

প্রাইভেট লিমিটেড কোম্পানির
বার্ষিক কমপ্লায়েন্স কী কী?

নিবন্ধনের পর কোম্পানিকে প্রতি বছর কী কী আইনি বাধ্যবাধকতা পালন করতে হয়? AGM আয়োজন, RJSC বার্ষিক রিটার্ন, অডিট, আয়কর, VAT, ট্রেড লাইসেন্স নবায়ন ও পরিচালকদের দায় — বারিধারা সহ সমগ্র বাংলাদেশের উদ্যোক্তাদের জন্য সম্পূর্ণ ও প্রামাণিক তথ্য।

১৮
মাসের মধ্যে প্রথম AGM আয়োজন বাধ্যতামূলক
২১
দিনের মধ্যে AGM-পরবর্তী বার্ষিক রিটার্ন RJSC-তে জমা
১৫
মাসের মধ্যে পরবর্তী AGM আয়োজন করতে হবে
২০০
টাকা/দিন জরিমানা দেরিতে ফাইলিংয়ে

📅 বার্ষিক কমপ্লায়েন্স ক্যালেন্ডার

অডিট সম্পন্ন
AGM আয়োজন
RJSC রিটার্ন
আয়কর রিটার্ন
ট্রেড লাইসেন্স
VAT রিটার্ন

কমপ্লায়েন্স ব্যর্থতা = কোম্পানি বাতিলের ঝুঁকি

কোম্পানি আইন ১৯৯৪-এর অধীনে নিবন্ধিত প্রতিটি প্রাইভেট লিমিটেড কোম্পানিকে RJSC, NBR ও স্থানীয় কর্তৃপক্ষের কাছে প্রতি বছর নির্দিষ্ট সময়ে রিপোর্ট, রিটার্ন ও ফি জমা দিতে হয় — অন্যথায় জরিমানা ও স্ট্রাইক-অফের ঝুঁকি থাকে।

২০২৬ আপডেট: কোম্পানি আইন ১৯৯৪ (সংশোধনী ২০২০ সহ) অনুযায়ী প্রতিটি প্রাইভেট লিমিটেড কোম্পানিকে প্রতি বছর AGM আয়োজন, RJSC-তে বার্ষিক রিটার্ন, নিরীক্ষিত আর্থিক বিবরণী, আয়কর রিটার্ন ও ট্রেড লাইসেন্স নবায়ন — সর্বোচ্চ নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সম্পন্ন করতে হয়। বারিধারার উদ্যোক্তারা RJSC অনলাইন পোর্টাল ও erevenue.dncc.gov.bd-এর মাধ্যমে ঘরে বসেই অধিকাংশ কমপ্লায়েন্স সম্পন্ন করতে পারেন।
৩২টির মধ্যে ৩২টি প্রশ্ন দেখাচ্ছে
🗓️ AGM সভা

কোম্পানি আইন ১৯৯৪-এর ধারা ৮১ অনুযায়ী প্রতিটি কোম্পানিকে বাধ্যতামূলকভাবে বার্ষিক সাধারণ সভা (Annual General Meeting — AGM) আয়োজন করতে হয়:

  • প্রথম AGM: ইনকর্পোরেশন সার্টিফিকেট পাওয়ার তারিখ থেকে ১৮ মাসের মধ্যে প্রথমবার AGM করতে হবে
  • পরবর্তী AGM: প্রতি ক্যালেন্ডার বছরে একটি AGM আয়োজন করতে হবে — এক AGM ও পরবর্তী AGM-এর মধ্যে ব্যবধান সর্বোচ্চ ১৫ মাস হতে পারবে
  • আগামী AGM-এর নোটিশ: AGM-এর অন্তত ২১ দিন আগে শেয়ারহোল্ডারদের লিখিত নোটিশ দিতে হবে
  • কোরাম: ন্যূনতম দুইজন শেয়ারহোল্ডার (বা AOA-তে নির্ধারিত কোরাম) উপস্থিত না থাকলে AGM বৈধ হয় না
  • সভার বিষয়: নিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন অনুমোদন, নিরীক্ষক নিয়োগ/পুনর্নিয়োগ, পরিচালক নির্বাচন ও লভ্যাংশ ঘোষণা AGM-এর প্রধান আলোচ্য বিষয়

AGM-এর কার্যবিবরণী মিনিট বুকে সংরক্ষণ করা বাধ্যতামূলক। AGM পরিচালনায় আমাদের সহায়তা নিন।

🗓️ AGM সভা

AGM আয়োজনের একটি নির্দিষ্ট পদ্ধতিগত কাঠামো অনুসরণ করতে হয়:

  • আহ্বানকারী: পরিচালনা পর্ষদ (Board of Directors) AGM আহ্বান করে — AGM-এর আগে বোর্ড মিটিং করে AGM-এর তারিখ ও এজেন্ডা নির্ধারণ করতে হয়
  • নোটিশ: রেজিস্টার্ড ডাকযোগে বা ইলেকট্রনিক মাধ্যমে (AOA অনুমোদিত হলে) সকল শেয়ারহোল্ডারকে কমপক্ষে ২১ দিন আগে নোটিশ পাঠাতে হবে
  • স্থান: সাধারণত কোম্পানির রেজিস্টার্ড অফিসে বা যেকোনো উপযুক্ত স্থানে আয়োজন করা যায়, তবে AOA-তে বিধান থাকলে সে অনুযায়ী করতে হবে
  • প্রক্সি: শেয়ারহোল্ডার সশরীরে উপস্থিত না থাকতে পারলে প্রক্সি নিয়োগ করতে পারেন — AGM-এর ৪৮ ঘণ্টা আগে প্রক্সি ফরম জমা দিতে হয়
  • মিনিটস বুক: AGM-এর সিদ্ধান্তসমূহ মিনিটস বুকে লিপিবদ্ধ করতে হয় এবং চেয়ারপার্সন কর্তৃক স্বাক্ষরিত করতে হয়
  • রেজুলেশন: সভায় সাধারণ প্রস্তাব (Ordinary Resolution) ও বিশেষ প্রস্তাব (Special Resolution) — উভয়ের জন্য ভিন্ন ভোটের সীমারেখা প্রযোজ্য
📂 RJSC রিটার্ন

কোম্পানি আইন ১৯৯৪-এর ধারা ৩৬ অনুযায়ী শেয়ার মূলধনসম্পন্ন প্রতিটি কোম্পানিকে বার্ষিক রিটার্ন জমা দিতে হয়:

  • সময়সীমা: AGM অনুষ্ঠানের তারিখ থেকে ২১ কার্যদিবসের মধ্যে RJSC-তে বার্ষিক রিটার্ন জমা দিতে হবে — কিছু বিশেষজ্ঞ ২৮ দিনের উল্লেখ করেন, তবে কোম্পানি আইন অনুযায়ী ২১ দিনকেই প্রামাণিক ধরা হয়
  • কী থাকবে: Schedule X (শেয়ার মূলধনের সংক্ষিপ্ত বিবরণ ও শেয়ারহোল্ডারদের তালিকা), পরিচালকদের তথ্য, পরিশোধিত মূলধন ও ব্যবসায়িক কার্যক্রমের বিবরণ
  • প্রাইভেট কোম্পানির সার্টিফিকেট: বার্ষিক রিটার্নের সাথে পরিচালক/কর্মকর্তা স্বাক্ষরিত একটি সার্টিফিকেট জমা দিতে হয় যা নিশ্চিত করে যে কোম্পানি সাধারণ জনগণকে শেয়ার বা ডিবেঞ্চার কেনার আমন্ত্রণ দেয়নি
  • অনলাইন জমা: RJSC পোর্টালে (app.roc.gov.bd) কোম্পানির প্রোফাইলে লগইন করে অনলাইনে রিটার্ন জমা দেওয়া যায়
  • নিরীক্ষিত আর্থিক বিবরণী: Balance Sheet AGM-এর ৩০ দিনের মধ্যে RJSC-তে জমা দেওয়ার বিধান রয়েছে

সময়মতো RJSC রিটার্ন ফাইলিংয়ে আমাদের সহায়তা নিন।

📂 RJSC রিটার্ন

RJSC-তে জমা দেওয়া বার্ষিক রিটার্নে নিচের তথ্যাবলী অন্তর্ভুক্ত থাকতে হয়:

  • কোম্পানির নাম, রেজিস্ট্রেশন নম্বর ও রেজিস্টার্ড অফিসের বর্তমান ঠিকানা
  • অনুমোদিত ও পরিশোধিত শেয়ার মূলধনের বিবরণ (সংখ্যা, শ্রেণি ও মূল্য সহ)
  • সকল শেয়ারহোল্ডারের নাম, ঠিকানা ও তাদের ধারণকৃত শেয়ারের সংখ্যা
  • বর্তমান পরিচালকমণ্ডলীর পূর্ণ বিবরণ — নাম, ঠিকানা, জাতীয়তা ও TIN
  • AGM-এর তারিখ, স্থান ও মূল সিদ্ধান্তসমূহ
  • কোম্পানি সচিব (যদি থাকেন) ও ব্যবস্থাপনা পরিচালকের তথ্য
  • ব্যবসায়িক কার্যক্রমের সংক্ষিপ্ত বিবরণ
  • দায়মুক্তি সার্টিফিকেট (প্রাইভেট কোম্পানির ক্ষেত্রে বাধ্যতামূলক)

তথ্যের যেকোনো ভুল বা অসামঞ্জস্যতা RJSC কর্তৃক রিকুইজিশন দিয়ে সংশোধন চাওয়া হতে পারে, যা প্রক্রিয়া বিলম্বিত করে।

🔍 অডিট

বাংলাদেশে কোম্পানি আইন ১৯৯৪ অনুযায়ী প্রতিটি নিবন্ধিত কোম্পানিকে নিয়মিত বাহ্যিক নিরীক্ষা করাতে হয়:

  • বাধ্যবাধকতা: প্রতিটি নিবন্ধিত কোম্পানিকে লাইসেন্সপ্রাপ্ত চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্ট (CA) ফার্ম দ্বারা আর্থিক বিবরণী নিরীক্ষা করানো বাধ্যতামূলক — কোম্পানি লোকসানে থাকলেও এই শর্ত প্রযোজ্য
  • নিরীক্ষক নিয়োগ: প্রতিটি AGM-তে পরবর্তী বছরের জন্য নিরীক্ষক (Auditor) নিয়োগ বা পুনর্নিয়োগ করতে হয়
  • প্রথম নিরীক্ষক: কোম্পানির প্রথম AGM পর্যন্ত পরিচালনা পর্ষদ প্রথম নিরীক্ষক নিয়োগ করতে পারে
  • নিরীক্ষা সম্পন্নের সময়: আর্থিক বছর শেষ হওয়ার পর AGM-এর আগেই নিরীক্ষিত আর্থিক বিবরণী তৈরি করতে হয়
  • নিরীক্ষকের স্বাধীনতা: কোম্পানির পরিচালক, কর্মকর্তা বা শেয়ারহোল্ডার কোম্পানির নিরীক্ষক হতে পারেন না
  • নিরীক্ষা রিপোর্ট: নিরীক্ষক তার মতামতসহ রিপোর্ট শেয়ারহোল্ডারদের কাছে উপস্থাপন করেন, যা AGM-তে আলোচনা হয়

যোগ্য CA ফার্ম নির্বাচনে আমাদের পরামর্শ নিন।

🔍 অডিট

প্রাইভেট লিমিটেড কোম্পানির বার্ষিক নিরীক্ষিত আর্থিক বিবরণীতে সাধারণত নিচের উপাদানগুলো অন্তর্ভুক্ত থাকে:

  • ব্যালেন্স শিট (Balance Sheet): নির্দিষ্ট তারিখের হিসাবে কোম্পানির সম্পদ, দায় ও মালিকানার মূল্যের বিবরণ
  • আয়-ব্যয় বিবরণী (Income Statement / P&L): নির্দিষ্ট সময়কালে আয়, ব্যয় ও নিট মুনাফা/লোকসানের বিবরণ
  • নগদ প্রবাহ বিবরণী (Cash Flow Statement): পরিচালন, বিনিয়োগ ও অর্থায়ন কার্যক্রম থেকে নগদের আগমন ও নির্গমনের তথ্য
  • ইকুইটির পরিবর্তনের বিবরণী: শেয়ার মূলধন, সংরক্ষিত আয় ও অন্যান্য রিজার্ভের পরিবর্তনের তথ্য
  • নোটসমূহ: হিসাবনীতি, দায়দেনার বিবরণ ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় ব্যাখ্যা
  • পরিচালকদের রিপোর্ট: কোম্পানির পরিচালকরা ব্যবসার কার্যক্রম ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা সম্পর্কে আলাদা রিপোর্ট দেন
  • নিরীক্ষকের রিপোর্ট: চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্টের স্বাধীন মতামতসহ নিরীক্ষা রিপোর্ট

আর্থিক বিবরণী বাংলাদেশ অ্যাকাউন্টিং স্ট্যান্ডার্ড (BAS/BFRS) মেনে তৈরি করতে হয়।

💰 আয়কর

জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (NBR)-এর কাছে প্রতি বছর কর্পোরেট আয়কর রিটার্ন দাখিল বাধ্যতামূলক:

  • সময়সীমা: সাধারণত আর্থিক বছর শেষ হওয়ার পরবর্তী ৯ মাসের মধ্যে আয়কর রিটার্ন জমা দিতে হয় (আর্থিক বছর ৩০ জুনে শেষ হলে পরবর্তী ৩১ মার্চের মধ্যে) — তবে NBR নির্ধারিত তারিখ নিশ্চিত করে জানতে হবে
  • কর হার (২০২৬): শেয়ার বাজারে তালিকাভুক্ত নয় এমন প্রাইভেট লিমিটেড কোম্পানির আয়কর হার প্রায় ২৭.৫% — প্রকৃত হার NBR-এর বার্ষিক বাজেটে নির্ধারিত হয়, তাই সর্বশেষ তথ্য NBR থেকে যাচাই করুন
  • অগ্রিম আয়কর: কোম্পানির প্রত্যাশিত কর দায়ের ভিত্তিতে বছরজুড়ে ত্রৈমাসিক অগ্রিম কর পরিশোধ করতে হয়
  • উৎসে কর কর্তন (TDS): কর্মচারীদের বেতন, পেশাদার ফি, ভাড়া ইত্যাদি পরিশোধে নির্ধারিত হারে উৎসে কর কর্তন ও NBR-তে জমা বাধ্যতামূলক
  • লোকসানে থাকলেও: কোম্পানি লোকসানে থাকলেও আয়কর রিটার্ন দাখিল করা বাধ্যতামূলক — ন্যূনতম কর দায়ের বিধান থাকতে পারে

কর পরিকল্পনা ও রিটার্ন দাখিলে আমাদের কর বিশেষজ্ঞদের সহায়তা নিন।

💰 আয়কর

TIN (Taxpayer Identification Number) একটি স্থায়ী নম্বর — এটি বার্ষিক নবায়নের প্রয়োজন নেই, তবে সংশ্লিষ্ট বাধ্যবাধকতা রয়েছে:

  • TIN নবায়ন নেই: একবার প্রাপ্ত TIN স্থায়ী — প্রতি বছর নবায়নের প্রয়োজন নেই
  • তথ্য আপডেট: কোম্পানির ঠিকানা, পরিচালক বা ব্যবসার ধরন পরিবর্তন হলে NBR-এর অনলাইন পোর্টালে TIN তথ্য আপডেট করতে হবে
  • রিটার্ন দাখিল: TIN থাকলেই বার্ষিক আয়কর রিটার্ন দাখিল বাধ্যতামূলক — রিটার্ন দাখিল না করলে TIN থাকলেও জরিমানা প্রযোজ্য
  • পরিচালকদের ব্যক্তিগত TIN: কোম্পানির পরিচালকদের ব্যক্তিগত TIN থাকা এবং ব্যক্তিগত আয়কর রিটার্ন দাখিল করা আলাদাভাবে বাধ্যতামূলক
  • চুক্তি ও লেনদেন: সরকারি ক্রয়, ব্যাংক ঋণ ও অনেক বাণিজ্যিক লেনদেনে হালনাগাদ TIN সার্টিফিকেট প্রয়োজন হয়
📊 VAT/মূসক

মূল্য সংযোজন কর (VAT/মূসক) কমপ্লায়েন্স কোম্পানির বার্ষিক টার্নওভারের উপর নির্ভর করে:

  • BIN নিবন্ধন: ব্যবসার টার্নওভার NBR নির্ধারিত সীমা ছাড়িয়ে গেলে VAT নিবন্ধন (BIN — Business Identification Number) বাধ্যতামূলক
  • মাসিক রিটার্ন: VAT নিবন্ধিত কোম্পানিকে প্রতি মাসে Mushak-9.1 ফরমে VAT রিটার্ন জমা দিতে হয়
  • ইনভয়েস: প্রতিটি পণ্য বিক্রয় বা সেবা প্রদানে নির্ধারিত ফরম্যাটে ভ্যাট ইনভয়েস ইস্যু করতে হয়
  • রেকর্ড সংরক্ষণ: VAT সংক্রান্ত সকল নথিপত্র কমপক্ষে ৬ বছর সংরক্ষণ করতে হয়
  • বার্ষিক সমন্বয়: নির্দিষ্ট টার্নওভার সীমার উপরে হলে বার্ষিক VAT অডিট ও সমন্বয় প্রযোজ্য হতে পারে
  • টার্নওভার কর: প্রযোজ্য ক্ষেত্রে নির্ধারিত হারে টার্নওভার কর (Turnover Tax) আলাদাভাবে পরিশোধ করতে হতে পারে

বর্তমান সীমারেখা ও হার NBR পোর্টাল (nbr.gov.bd) থেকে যাচাই করুন — এগুলো পরিবর্তনযোগ্য।

📍 বারিধারা/DNCC

বারিধারার কোম্পানির ট্রেড লাইসেন্স ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশন (DNCC)-এর আওতায় পড়ে:

  • নবায়নের সময়: ট্রেড লাইসেন্স বাংলাদেশ সরকারের অর্থবছর অনুযায়ী (জুলাই–জুন) প্রতি বছর নবায়ন করতে হয় — সাধারণত জুলাই মাসের মধ্যে নবায়ন সম্পন্ন করা উচিত
  • DNCC অনলাইন পোর্টাল: erevenue.dncc.gov.bd পোর্টালে অনলাইনে ট্রেড লাইসেন্স নবায়নের আবেদন করা যায়
  • নবায়ন ফি: ব্যবসার ধরন ও কোম্পানির পরিশোধিত মূলধনের ভিত্তিতে DNCC নির্ধারিত বার্ষিক নবায়ন ফি পরিশোধ করতে হয়
  • প্রয়োজনীয় কাগজপত্র: আগের বছরের ট্রেড লাইসেন্স, হালনাগাদ TIN সার্টিফিকেট, কোম্পানির RJSC সার্টিফিকেট ও ভাড়া চুক্তিনামা
  • দেরি করলে: নির্ধারিত সময়ের পর নবায়ন করলে অতিরিক্ত জরিমানা ফি প্রযোজ্য হতে পারে
  • ঠিকানা পরিবর্তন: কোম্পানির অফিস ঠিকানা পরিবর্তন হলে নতুন ঠিকানায় নতুন ট্রেড লাইসেন্স নিতে হয়

DNCC ট্রেড লাইসেন্স নবায়নে আমাদের সহায়তা নিন।

⚠️ জরিমানা

কোম্পানি আইন ১৯৯৪-এর ধারা ৮১-এর উপধারা (১) ও (২) লঙ্ঘনে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে AGM না করলে:

বিষয়জরিমানার পরিমাণ
AGM না করার মূল জরিমানাসর্বোচ্চ ১০,০০০ টাকা
চলমান লঙ্ঘনের ক্ষেত্রেপ্রতিদিন ২৫০ টাকা পর্যন্ত
দায়বদ্ধ ব্যক্তিলঙ্ঘনের জন্য দায়ী ব্যক্তি বা কোম্পানি

এছাড়াও AGM না করা মানে বার্ষিক রিটার্নও জমা দেওয়া যায় না, যা RJSC-তে আলাদা অনিয়মের কারণ হয়। দীর্ঘমেয়াদী অমনোযোগিতা কোম্পানি স্ট্রাইক-অফের ঝুঁকি তৈরি করে।

⚠️ জরিমানা

RJSC-তে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে রিটার্ন জমা না দিলে বেশ কিছু প্রতিকূল পরিস্থিতি তৈরি হয়:

  • দৈনিক জরিমানা: দেরিতে ফাইলিং করলে প্রতিদিনের ভিত্তিতে সর্বোচ্চ ২০০ টাকা পর্যন্ত জরিমানা প্রযোজ্য হতে পারে
  • অতিরিক্ত ফাইলিং ফি: নির্ধারিত সময় পার হলে সাধারণ ফি-এর চেয়ে বেশি ফি দিয়ে রিটার্ন জমা দিতে হয়
  • ব্যাংক ও ব্যবসায়িক সমস্যা: হালনাগাদ RJSC রিটার্ন না থাকলে ব্যাংক ঋণ, সরকারি টেন্ডারে অংশগ্রহণ ও অনেক বাণিজ্যিক চুক্তিতে প্রতিবন্ধকতা তৈরি হয়
  • পরিচালকদের দায়: নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে কমপ্লায়েন্স ব্যর্থতার জন্য পরিচালকদের ব্যক্তিগত দায় উদ্ভব হতে পারে
  • স্ট্রাইক-অফ: দীর্ঘমেয়াদে রিটার্ন জমা না দিলে RJSC কোম্পানিটিকে নিষ্ক্রিয় বা বিলুপ্ত ঘোষণা করতে পারে
⚠️ সতর্কতা: একবার স্ট্রাইক-অফ হলে কোম্পানি পুনরুজ্জীবিত করা জটিল, সময়সাপেক্ষ ও ব্যয়বহুল প্রক্রিয়া।
🔄 পরিবর্তন জানানো

পরিচালনা পর্ষদে যেকোনো পরিবর্তন নির্ধারিত সময়ের মধ্যে RJSC-কে আনুষ্ঠানিকভাবে জানাতে হয়:

  • ফরম XII: পরিচালক নিয়োগ, পদত্যাগ বা অপসারণের ক্ষেত্রে কোম্পানি আইন ১৯৯৪-এর ধারা ১১৫ অনুযায়ী Form XII পূরণ করে RJSC-তে জমা দিতে হয়
  • সময়সীমা: পরিচালক পরিবর্তনের ঘটনা থেকে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ফরম জমা দিতে হয় — সাধারণত ১৪ থেকে ২৮ দিনের মধ্যে
  • বোর্ড রেজুলেশন: পরিচালক নিয়োগ/পদত্যাগের সিদ্ধান্তের বোর্ড রেজুলেশন ও মিনিটস ফরমের সাথে সংযুক্ত করতে হয়
  • নতুন পরিচালকের তথ্য: নতুন পরিচালকের NID কপি, ছবি, ঠিকানা ও TIN নম্বর প্রয়োজন
  • সম্মতিপত্র: নতুন পরিচালকের Form IX (পরিচালক হিসেবে সম্মতিপত্র) সংযুক্ত করতে হয়

পরিচালক পরিবর্তন প্রক্রিয়ায় আমাদের আইনি সহায়তা নিন।

🔄 পরিবর্তন জানানো

বারিধারা বা যেকোনো স্থানে কোম্পানির অফিস স্থানান্তরিত হলে বেশ কয়েকটি কর্তৃপক্ষকে আলাদাভাবে জানাতে হয়:

  • RJSC-কে জানানো: নির্ধারিত ফরমে নতুন ঠিকানা, নতুন ভাড়া চুক্তিনামা ও বোর্ড রেজুলেশনসহ RJSC-তে রেজিস্টার্ড অফিস পরিবর্তনের নোটিশ জমা দিতে হয়
  • MOA সংশোধন: যদি MOA-তে ঠিকানা নির্দিষ্ট থাকে, তাহলে MOA সংশোধনের জন্য বিশেষ প্রস্তাব পাস করে RJSC-তে জমা দিতে হতে পারে
  • NBR আপডেট: TIN ও VAT/BIN রেকর্ডে নতুন ঠিকানা আপডেট করতে হবে
  • নতুন ট্রেড লাইসেন্স: নতুন এলাকায় নতুন ট্রেড লাইসেন্স নিতে হবে — বারিধারা থেকে অন্যত্র গেলে DNCC ছাড়া অন্য কর্তৃপক্ষের ট্রেড লাইসেন্স লাগতে পারে
  • ব্যাংক আপডেট: কোম্পানির ব্যাংক হিসাবে নতুন ঠিকানা আপডেট করতে হবে

একাধিক কর্তৃপক্ষে সামঞ্জস্যপূর্ণ ঠিকানা না থাকলে ভবিষ্যতে বিভিন্ন জটিলতা তৈরি হয়।

🔄 পরিবর্তন জানানো

প্রাইভেট লিমিটেড কোম্পানিতে শেয়ার হস্তান্তর আইন ও AOA দ্বারা সীমাবদ্ধ — সঠিক প্রক্রিয়া অনুসরণ করা জরুরি:

  • AOA পরীক্ষা: শেয়ার হস্তান্তরের আগে AOA-তে নির্ধারিত শর্ত ও পদ্ধতি অনুসরণ করতে হবে — সাধারণত বোর্ডের অনুমোদন প্রয়োজন হয়
  • প্রথম অগ্রাধিকার: অনেক কোম্পানির AOA-তে শেয়ার হস্তান্তরের আগে বিদ্যমান শেয়ারহোল্ডারদের প্রথম অগ্রাধিকার (Right of First Refusal) দেওয়ার বিধান থাকে
  • হস্তান্তর দলিল: শেয়ার হস্তান্তরের জন্য নির্ধারিত Transfer Deed তৈরি করে স্ট্যাম্প শুল্ক সহ স্বাক্ষরিত করতে হয়
  • RJSC নোটিশ: শেয়ার হস্তান্তরের বিষয়টি RJSC-কে জানাতে হয় — বার্ষিক রিটার্নে হালনাগাদ শেয়ারহোল্ডার তথ্য প্রতিফলিত হতে হবে
  • শেয়ার রেজিস্টার: কোম্পানির শেয়ার রেজিস্টারে হস্তান্তরের তথ্য আপডেট করতে হবে
  • পুঁজিগত লাভ কর: শেয়ার বিক্রয় থেকে লাভ হলে কর দায় উদ্ভব হতে পারে — NBR-এর বিধান অনুযায়ী
📂 RJSC রিটার্ন

কোম্পানি আইন অনুযায়ী রেজিস্টার্ড অফিসে বেশ কিছু বাধ্যতামূলক রেজিস্টার ও রেকর্ড সংরক্ষণ করতে হয়:

  • সদস্য রেজিস্টার (Register of Members): সকল শেয়ারহোল্ডারের নাম, ঠিকানা ও শেয়ারের বিবরণ — সর্বদা হালনাগাদ রাখতে হবে
  • পরিচালক রেজিস্টার: বর্তমান ও সাবেক সকল পরিচালকের তথ্য সংরক্ষণ করতে হবে
  • চার্জ রেজিস্টার (Register of Charges): কোম্পানির সম্পত্তিতে তৃতীয় পক্ষের ভার বা বন্ধকের তথ্য
  • মিনিটস বুক: সকল AGM, EGM ও বোর্ড মিটিংয়ের কার্যবিবরণী ও সিদ্ধান্তের রেকর্ড
  • শেয়ার ট্রান্সফার রেজিস্টার: সকল শেয়ার হস্তান্তরের লেনদেনের তথ্য
  • সংরক্ষণকাল: কমপক্ষে ৬ থেকে ১০ বছর নথিপত্র সংরক্ষণ করার পরামর্শ দেওয়া হয়
  • পরিদর্শন: কোম্পানির যেকোনো সদস্য ও নির্দিষ্ট ক্ষেত্রে RJSC কর্মকর্তারা এই রেজিস্টার পরিদর্শন করতে পারেন
🔄 পরিবর্তন জানানো

কোম্পানির মূলধন কাঠামো পরিবর্তনে আইনি ও RJSC পদ্ধতিগত শর্ত পালন করতে হয়:

  • অনুমোদিত মূলধন বৃদ্ধি: MOA সংশোধন প্রয়োজন — শেয়ারহোল্ডারদের সভায় বিশেষ প্রস্তাব পাস করে RJSC-তে MOA সংশোধনী জমা দিতে হয় এবং অতিরিক্ত রেজিস্ট্রেশন ফি পরিশোধ করতে হয়
  • নতুন শেয়ার বরাদ্দ (Allotment): বোর্ড মিটিংয়ের অনুমোদনে নতুন শেয়ার বরাদ্দ করা যায় — ব্যাংক সার্টিফিকেট সহ RJSC-তে নির্ধারিত ফরমে জানাতে হয়
  • বিদেশি শেয়ারহোল্ডারের ক্ষেত্রে: নতুন শেয়ার বরাদ্দে বিদেশি শেয়ারহোল্ডার থাকলে বাংলাদেশ ব্যাংকে শেয়ার ইস্যু সংক্রান্ত প্রতিবেদন জমা দিতে হয়
  • সময়সীমা: শেয়ার বরাদ্দের পর নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে (সাধারণত ৬০ দিনের মধ্যে) RJSC-কে জানাতে হয়
  • নতুন শেয়ার সার্টিফিকেট: নতুন শেয়ারহোল্ডারদের আইনি নির্ধারিত সময়ের মধ্যে শেয়ার সার্টিফিকেট ইস্যু করতে হয়
🌍 বিদেশি বিনিয়োগ

হ্যাঁ, বিদেশি বিনিয়োগকারীযুক্ত কোম্পানির জন্য RJSC কমপ্লায়েন্সের পাশাপাশি অতিরিক্ত বাধ্যবাধকতা রয়েছে:

  • BIDA বার্ষিক প্রতিবেদন: বিদেশি বিনিয়োগ নিবন্ধিত থাকলে বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (BIDA)-তে নিয়মিত কার্যক্রম প্রতিবেদন জমা দিতে হয়
  • বাংলাদেশ ব্যাংক রিপোর্টিং: শেয়ার ইস্যু, লভ্যাংশ প্রেরণ ও মূলধন পত্যাবর্তনের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ ব্যাংকে নির্ধারিত ফরমে প্রতিবেদন জমা দিতে হয়
  • লভ্যাংশ প্রেরণ: বিদেশি শেয়ারহোল্ডারকে লভ্যাংশ বিদেশে পাঠাতে বাংলাদেশ ব্যাংকের অনুমোদন প্রয়োজন হয়
  • ওয়ার্ক পারমিট নবায়ন: বিদেশি পরিচালক বা কর্মীদের ওয়ার্ক পারমিট নবায়ন আলাদাভাবে করতে হয়
  • বিনিময় নিয়ন্ত্রণ: বৈদেশিক মুদ্রা পরিচালনায় বাংলাদেশ ব্যাংকের বৈদেশিক মুদ্রা নীতি মেনে চলতে হয়

বিদেশি বিনিয়োগ কমপ্লায়েন্সে আমাদের বিশেষজ্ঞ টিমের সহায়তা নিন।

📍 বারিধারা/DNCC

RJSC কমপ্লায়েন্স বাংলাদেশ জুড়ে একই — কিন্তু বারিধারার ভৌগোলিক বৈশিষ্ট্যের কারণে কিছু বিষয় মনে রাখতে হয়:

  • ট্রেড লাইসেন্স: বারিধারা (গুলশান থানা, ওয়ার্ড ১৮, পোস্টাল কোড ১২১২) DNCC-এর আওতাধীন — তাই ট্রেড লাইসেন্স DNCC থেকে নেওয়া হয়, DCC বা অন্য সংস্থা থেকে নয়
  • ডিপ্লোম্যাটিক জোন: বারিধারার ডিপ্লোম্যাটিক জোনে কিছু এলাকায় বাণিজ্যিক কার্যক্রমের জন্য বিশেষ জোনিং অনুমোদন বা NOC প্রয়োজন হতে পারে — কার্যালয় ভাড়া নেওয়ার আগে যাচাই করুন
  • বিদেশি প্রতিষ্ঠান: বারিধারায় অনেক বিদেশি দূতাবাস ও আন্তর্জাতিক সংস্থা থাকায় এখানে বিদেশি বিনিয়োগের পরিমাণ তুলনামূলক বেশি — তাই BIDA কমপ্লায়েন্সের প্রয়োজনীয়তাও বেশি
  • সামঞ্জস্যপূর্ণ ঠিকানা: RJSC, NBR ও DNCC — তিন জায়গায় অবশ্যই একই ঠিকানা ব্যবহার করতে হবে
  • অনলাইন সুবিধা: RJSC ও DNCC উভয়েরই অনলাইন পোর্টাল আছে — বারিধারার উদ্যোক্তারা অধিকাংশ কমপ্লায়েন্স ঘরে বসেই সম্পন্ন করতে পারেন
📂 RJSC রিটার্ন

প্রতি বছর নিচের কমপ্লায়েন্স চেকলিস্ট অনুসরণ করুন:

আর্থিক বিবরণী তৈরি: আর্থিক বছর শেষ হওয়ার পর CA দ্বারা নিরীক্ষা
AGM আয়োজন: নিরীক্ষিত আর্থিক বিবরণী উপস্থাপন, নিরীক্ষক নিয়োগ ও মিনিটস সংরক্ষণ
RJSC বার্ষিক রিটার্ন: AGM-এর ২১ দিনের মধ্যে অনলাইনে জমা
আয়কর রিটার্ন: NBR-এ নির্ধারিত সময়ে কর্পোরেট আয়কর রিটার্ন দাখিল
ট্রেড লাইসেন্স নবায়ন: DNCC-তে বার্ষিক ট্রেড লাইসেন্স নবায়ন (জুলাই-জুন)
মাসিক VAT রিটার্ন: প্রযোজ্য হলে প্রতি মাসে Mushak-9.1 ফরমে জমা
স্ট্যাটুটরি রেজিস্টার: সদস্য, পরিচালক ও চার্জ রেজিস্টার হালনাগাদ রাখুন
পরিচালক/শেয়ারহোল্ডার পরিবর্তন: যেকোনো পরিবর্তন নির্ধারিত সময়ে RJSC-কে জানান
⚠️ জরিমানা

দীর্ঘমেয়াদে কমপ্লায়েন্স না করলে RJSC কোম্পানিকে রেজিস্টার থেকে বাতিল (Strike Off) করতে পারে:

  • স্ট্রাইক-অফের কারণ: টানা বেশ কয়েক বছর বার্ষিক রিটার্ন জমা না দেওয়া বা কোম্পানি নিষ্ক্রিয় থাকা
  • নোটিশ: RJSC সাধারণত স্ট্রাইক-অফের আগে কোম্পানিকে নোটিশ দেয় ও জবাব দেওয়ার সুযোগ দেয়
  • পুনরুজ্জীবন সম্ভব: স্ট্রাইক-অফের পর নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে হাইকোর্ট ডিভিশনে আবেদনের মাধ্যমে কোম্পানি পুনরুজ্জীবিত (Restoration) করা যায়
  • পুনরুজ্জীবনের প্রক্রিয়া: আদালতের অনুমতি, সকল বকেয়া ফি ও জরিমানা পরিশোধ এবং হালনাগাদ রিটার্ন জমা দিতে হয়
  • ব্যয় ও জটিলতা: পুনরুজ্জীবনের প্রক্রিয়া নিয়মিত কমপ্লায়েন্সের তুলনায় অনেক বেশি ব্যয়বহুল, সময়সাপেক্ষ ও জটিল
⚠️ স্ট্রাইক-অফ হয়ে যাওয়ার পর কোম্পানির সম্পদ সরকারের অধীনে চলে যেতে পারে।

স্ট্রাইক-অফ থেকে রক্ষা বা পুনরুজ্জীবনে আমাদের সহায়তা নিন।

🔍 অডিট

কোম্পানি সচিব নিয়োগের শর্ত কোম্পানির আকার ও মূলধনের উপর নির্ভর করে:

  • বৃহৎ কোম্পানি: নির্দিষ্ট মূলধন বা বার্ষিক টার্নওভারের ঊর্ধ্বে কোম্পানির জন্য যোগ্য কোম্পানি সচিব নিয়োগ বাধ্যতামূলক হতে পারে
  • ছোট প্রাইভেট কোম্পানি: তুলনামূলক ছোট কোম্পানিতে কোম্পানি সচিব বাধ্যতামূলক নয়, তবে কমপ্লায়েন্স পরিচালনার জন্য যোগ্য ব্যক্তি নিয়োগ করা বুদ্ধিমানের কাজ
  • সচিবের কাজ: AGM আয়োজন, বোর্ড মিটিং পরিচালনা, RJSC ফাইলিং, শেয়ার রেজিস্টার রক্ষণাবেক্ষণ ও কমপ্লায়েন্স মনিটরিং
  • পেশাদার পরিষেবা: স্থায়ী কোম্পানি সচিব না থাকলে আইনি বা পরামর্শ প্রতিষ্ঠান থেকে কমপ্লায়েন্স সেবা নেওয়া যায়

কমপ্লায়েন্স ব্যবস্থাপনায় আমাদের পেশাদার সেবা বিবেচনা করুন।

💰 আয়কর

কর্পোরেট কর ব্যবস্থাপনার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হলো উৎসে কর কর্তন (Tax Deducted at Source — TDS):

  • বেতন থেকে কর্তন: নির্ধারিত আয়করযোগ্য সীমা অতিক্রমকারী কর্মচারীর বেতন থেকে মাসিক হারে আয়কর কর্তন বাধ্যতামূলক
  • পেশাদার ফি ও সম্মানী: আইনজীবী, পরামর্শক, CA ও অন্যান্য পেশাদারদের ফি প্রদানে নির্ধারিত হারে উৎসে কর কর্তন প্রযোজ্য
  • ভাড়া: কার্যালয় বা সম্পদের ভাড়া প্রদানে উৎসে কর কর্তন প্রযোজ্য হতে পারে
  • সরকারি কোষাগারে জমা: প্রতি মাসে কর্তিত কর নির্ধারিত তারিখের মধ্যে সরকারি কোষাগারে জমা দিতে হয়
  • TDS সার্টিফিকেট: যার কাছ থেকে কর কর্তন করা হয়েছে তাকে TDS সার্টিফিকেট প্রদান করতে হয়
  • রেকর্ড সংরক্ষণ: সকল TDS সংক্রান্ত রেকর্ড সংরক্ষণ করতে হয় এবং বার্ষিক আয়কর রিটার্নে প্রতিফলিত করতে হয়
🗓️ AGM সভা

AGM-এর বাইরে বিশেষ পরিস্থিতিতে অসাধারণ সাধারণ সভা (Extraordinary General Meeting — EGM) আহ্বান করতে হয়:

  • EGM কখন লাগে: MOA/AOA সংশোধন, অনুমোদিত মূলধন পরিবর্তন, কোম্পানির বিলুপ্তি বা ঐচ্ছিক অবসায়ন, পরিচালক অপসারণ বা জরুরি ব্যবসায়িক সিদ্ধান্তে EGM প্রয়োজন হয়
  • আহ্বানকারী: পরিচালনা পর্ষদ বা নির্ধারিত শেয়ারহোল্ডার (ন্যূনতম ১০% ভোটাধিকারধারী) EGM আহ্বান করতে পারেন
  • নোটিশ: EGM-এর জন্যও কমপক্ষে ২১ দিনের নোটিশ (বিশেষ প্রস্তাবের ক্ষেত্রে) দিতে হয়
  • বিশেষ প্রস্তাব: গুরুত্বপূর্ণ কিছু সিদ্ধান্তের জন্য শেয়ারহোল্ডারদের কমপক্ষে তিন-চতুর্থাংশ ভোটের প্রয়োজন হয়
  • RJSC রিটার্ন: বিশেষ প্রস্তাব পাস হলে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে RJSC-কে জানাতে হয়
📊 VAT/মূসক

VAT নিবন্ধিত কোম্পানিকে প্রতি মাসে নির্ধারিত VAT রিটার্ন ফরম পূরণ করতে হয়:

  • ফরম: Mushak-9.1 হলো মাসিক VAT রিটার্নের মূল ফরম — এতে ওই মাসের সকল বিক্রয়, ক্রয়, আউটপুট ও ইনপুট ভ্যাটের হিসাব থাকে
  • সময়সীমা: প্রতি মাসের শেষ দিন বা NBR নির্ধারিত তারিখের মধ্যে পরবর্তী মাসের রিটার্ন জমা দিতে হয়
  • অনলাইন জমা: NBR-এর iBAS++ বা অনলাইন ভ্যাট পোর্টালের মাধ্যমে জমা দেওয়া যায়
  • ইনপুট ট্যাক্স ক্রেডিট: ব্যবসায়িক ক্রয়ে পরিশোধিত VAT রিটার্নে ইনপুট ক্রেডিট হিসেবে দেখানো যায়
  • শূন্য রিটার্ন: কোনো মাসে কার্যক্রম না থাকলেও শূন্য রিটার্ন জমা দিতে হবে
  • দেরিতে জমার জরিমানা: নির্ধারিত সময়ের পর রিটার্ন জমা দিলে জরিমানা ও সুদ প্রযোজ্য হতে পারে
🔄 পরিবর্তন জানানো

MOA বা AOA সংশোধনের জন্য আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করতে হয় যা অপেক্ষাকৃত জটিল:

  • বিশেষ প্রস্তাব: MOA বা AOA সংশোধনের জন্য EGM বা AGM-তে বিশেষ প্রস্তাব (Special Resolution) পাস করতে হয় — সাধারণত ৭৫% বা তার বেশি ভোটের প্রয়োজন হয়
  • RJSC জমা: বিশেষ প্রস্তাব পাসের পর ৩০ দিনের মধ্যে প্রস্তাবের কপি, মিনিটস ও সংশোধিত MOA/AOA RJSC-তে জমা দিতে হয়
  • RJSC অনুমোদন: নির্দিষ্ট ধরনের সংশোধনীর জন্য RJSC-এর আনুষ্ঠানিক অনুমোদন প্রয়োজন হতে পারে
  • মূলধন পরিবর্তনে অতিরিক্ত ফি: মূলধন বৃদ্ধির সংশোধনীতে অতিরিক্ত নিবন্ধন ফি ও স্ট্যাম্প ডিউটি পরিশোধ করতে হয়

MOA/AOA সংশোধনের মতো জটিল প্রক্রিয়ায় আমাদের আইনি বিশেষজ্ঞদের সহায়তা নিন।

💰 আয়কর

লোকসানে থাকা কোম্পানির জন্য কর বিষয়ক কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিধান রয়েছে:

  • রিটার্ন দাখিল বাধ্যতামূলক: হ্যাঁ, কোম্পানি লোকসানে থাকলেও বার্ষিক আয়কর রিটার্ন দাখিল করতে হবে — রিটার্ন না দিলে লোকসান সুবিধাও পাওয়া যাবে না
  • ন্যূনতম কর: লোকসানে থাকলেও টার্নওভারের উপর ন্যূনতম আয়কর প্রযোজ্য হতে পারে — এটি NBR নির্ধারিত
  • লোকসান বহন (Carry Forward): সঠিকভাবে রিটার্নে দেখানো ব্যবসায়িক লোকসান ভবিষ্যতের কর বছরে মুনাফার বিপরীতে সমন্বয় (Carry Forward) করার সুযোগ থাকে — তবে নির্দিষ্ট বছরের সীমা রয়েছে
  • ডিপ্রিশিয়েশন: নির্ধারিত হারে সম্পদের ডিপ্রিশিয়েশন করছাড়যোগ্য — এটিও সঠিকভাবে রিটার্নে প্রতিফলিত করতে হয়

কর সঞ্চয় পরিকল্পনায় আমাদের পরামর্শ নিন।

📍 বারিধারা/DNCC

বারিধারা সংলগ্ন এলাকায় অফিস থাকলে ঠিকানা সংক্রান্ত বিষয়ে সতর্ক থাকতে হবে:

  • নিকেতন: DNCC-এর আওতায় — ট্রেড লাইসেন্স DNCC থেকে নিতে হবে
  • গুলশান লেক সংলগ্ন: গুলশান থানার অধীনে — DNCC ট্রেড লাইসেন্স প্রযোজ্য
  • বসুন্ধরা আবাসিক এলাকা: ভাটারা এলাকার অংশ হওয়ায় নির্দিষ্ট ক্ষেত্রে ভিন্ন প্রশাসনিক এলাকার অন্তর্ভুক্ত হতে পারে — ঠিকানা যাচাই করুন
  • বসুন্ধরা সিটি/কমার্শিয়াল এলাকা: এলাকাভেদে ভিন্ন সিটি কর্পোরেশন ট্রেড লাইসেন্স প্রযোজ্য হতে পারে
  • ঠিকানার সামঞ্জস্যতা: RJSC, NBR ও ট্রেড লাইসেন্স — তিন জায়গায় হুবহু একই ঠিকানা থাকতে হবে — সামান্য ভুলও সমস্যা তৈরি করতে পারে

ঠিকানা সংক্রান্ত কোনো অনিশ্চয়তায় আমাদের সাথে পরামর্শ করুন।

📂 RJSC রিটার্ন

কোম্পানির সম্পদ বন্ধক রেখে ঋণ নিলে এই বন্ধককে "Charge" বলা হয় এবং এটি RJSC-তে নিবন্ধন করতে হয়:

  • বাধ্যবাধকতা: কোম্পানির স্থাবর বা অস্থাবর সম্পত্তিতে কোনো ভার বা বন্ধক সৃষ্টি হলে তা RJSC-তে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নিবন্ধন করতে হয়
  • সময়সীমা: চার্জ সৃষ্টির ২১ দিনের মধ্যে RJSC-তে নিবন্ধন করা বাধ্যতামূলক
  • চার্জ রেজিস্টার: কোম্পানির নিজের কাছে Charge Register সংরক্ষণ করতে হবে
  • চার্জ পরিশোধ: ঋণ পরিশোধের পর RJSC-তে চার্জ বাতিলের নোটিশ দিতে হয়
  • নিবন্ধন না করলে: চার্জ নিবন্ধন না করলে তা পরবর্তী পাওনাদার বা ক্লিয়ারেন্সে অকার্যকর হতে পারে
⚠️ জরিমানা

প্রাইভেট লিমিটেড কোম্পানির পরিচালকরা সীমিত দায়ের সুবিধা পেলেও কমপ্লায়েন্স ব্যর্থতায় ব্যক্তিগত দায় উদ্ভব হতে পারে:

  • আয়কর ব্যর্থতা: কর্মচারীর বেতন থেকে কর্তিত কর সরকারি কোষাগারে জমা না দিলে পরিচালকরা ব্যক্তিগতভাবে দায়ী হতে পারেন
  • AGM ও রিটার্ন ব্যর্থতা: কোম্পানি আইনের নির্দিষ্ট ধারা লঙ্ঘনের জন্য দায়ী পরিচালক বা কর্মকর্তা ব্যক্তিগত জরিমানার সম্মুখীন হতে পারেন
  • জালিয়াতি বা অসদাচরণ: কোম্পানির ঢাল ব্যবহার করে প্রতারণামূলক কার্যক্রমে পরিচালকদের ব্যক্তিগত দায় নির্ধারিত হতে পারে
  • নির্দিষ্ট ঋণ: কিছু ক্ষেত্রে পরিচালকরা ব্যক্তিগত গ্যারান্টি দিলে সেই ঋণের দায় ব্যক্তিগত হয়ে যায়
  • সুরক্ষার উপায়: নিয়মিত কমপ্লায়েন্স, পেশাদার পরামর্শ ও সুষ্ঠু কর্পোরেট গভর্ন্যান্স ব্যক্তিগত দায় থেকে সুরক্ষার সর্বোত্তম পন্থা
🔍 অডিট

নিরীক্ষা রিপোর্টের ধরন কোম্পানির বিশ্বাসযোগ্যতাকে প্রভাবিত করে:

  • Unqualified/Clean Opinion: সর্বোত্তম মতামত — আর্থিক বিবরণী সঠিক ও সামঞ্জস্যপূর্ণ। ব্যাংক ঋণ, বিনিয়োগকারী আকর্ষণ ও সরকারি টেন্ডারে সুবিধাজনক
  • Qualified Opinion: নির্দিষ্ট কিছু বিষয়ে নিরীক্ষক দ্বিমত পোষণ করলে এই মতামত দেওয়া হয় — ব্যাংক বা বিনিয়োগকারীরা প্রশ্ন তুলতে পারেন
  • Adverse Opinion: আর্থিক বিবরণী বিভ্রান্তিকর হলে নিরীক্ষক নেতিবাচক মতামত দেন — এটি গুরুতর সমস্যার ইঙ্গিত
  • Disclaimer of Opinion: পর্যাপ্ত প্রমাণ না পাওয়ায় নিরীক্ষক মতামত দিতে অস্বীকার করলে এটি দেওয়া হয়
  • প্রভাব: Qualified বা Adverse Opinion থাকলে ব্যাংক ঋণ প্রাপ্তি, বিনিয়োগকারী আস্থা ও সরকারি টেন্ডারে নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে

সঠিক হিসাব রক্ষণাবেক্ষণ Clean Opinion নিশ্চিত করার সবচেয়ে কার্যকর উপায়।

📂 RJSC রিটার্ন

কোম্পানির ধরন ও আকারের ভিত্তিতে বার্ষিক কমপ্লায়েন্স বাজেট নির্ধারণ করা যায়:

  • অডিট ফি: কোম্পানির পরিধি ও CA ফার্মের মানের উপর নির্ভরশীল — ছোট কোম্পানির জন্য তুলনামূলক কম, বড় কোম্পানির জন্য বেশি
  • RJSC রিটার্ন ফি: মূলধন ও ফাইলিং ফরমের সংখ্যার ভিত্তিতে নির্ধারিত সরকারি ফি
  • DNCC ট্রেড লাইসেন্স নবায়ন: ব্যবসার ধরন ও মূলধনের ভিত্তিতে DNCC-এর বার্ষিক ফি
  • আয়কর পরামর্শ ও রিটার্ন: কর পরামর্শদাতার ফি সহ কর্পোরেট রিটার্ন প্রস্তুতির খরচ
  • কমপ্লায়েন্স রিটেইনার: সারা বছর কমপ্লায়েন্স পর্যবেক্ষণের জন্য পেশাদার প্রতিষ্ঠানের সাথে বার্ষিক চুক্তি খরচ সাশ্রয়ী হতে পারে
  • প্যাকেজ পরিষেবা: RJSC রিটার্ন + আয়কর + ট্রেড লাইসেন্স একসাথে নিলে সাশ্রয়ী

বার্ষিক কমপ্লায়েন্স বাজেট প্রস্তুতি ও প্যাকেজ সেবার জন্য আমাদের সাথে যোগাযোগ করুন।

কোনো প্রশ্ন পাওয়া যায়নি। অন্য শব্দ দিয়ে খুঁজুন বা আমাদের সাথে সরাসরি কথা বলুন।

তথ্যসূত্র: কোম্পানি আইন ১৯৯৪, বার্ষিক সাধারণ সভা (AGM), বাহ্যিক নিরীক্ষামূল্য সংযোজন কর (VAT) সংক্রান্ত প্রামাণিক ধারণা।
প্রাইভেট লিমিটেড কোম্পানি, কর্পোরেট গভর্ন্যান্স, মেমোরেন্ডাম অব অ্যাসোসিয়েশন (MOA)আর্টিকেল অব অ্যাসোসিয়েশন (AOA) পৃথক আইনি দলিল।
বারিধারা ঢাকার গুলশান থানার একটি এলাকা, ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশন (DNCC)-এর ওয়ার্ড ১৮-এর অধীনে, পোস্টাল কোড ১২১২।
RJSC রিটার্ন ফাইলিং: app.roc.gov.bd | ট্রেড লাইসেন্স নবায়ন: erevenue.dncc.gov.bd | আয়কর রিটার্ন: nbr.gov.bd
এই পৃষ্ঠার তথ্য শুধুমাত্র সাধারণ তথ্যের উদ্দেশ্যে প্রস্তুত — এটি আনুষ্ঠানিক আইনি বা আর্থিক পরামর্শ নয়। বিশেষজ্ঞ সহায়তার জন্য আমাদের যোগ্য পেশাদারদের সাথে যোগাযোগ করুন।
বারিধারা, গুলশান, নিকেতন, বসুন্ধরা ও সমগ্র ঢাকার উদ্যোক্তাদের আইনি ও কর্পোরেট কমপ্লায়েন্স সেবায় নিবেদিত।

Aeenx Footer

booked from Bangladesh Booking Notification

Aeenx Chatbot