Contact Now
Select your region
আইন সহজীকরণ টুল

কোম্পানী আইন, ১৯৯৪ এখন বুঝুন একদম সহজ বাংলায়

বাংলাদেশে কোম্পানি গঠন, শেয়ার মূলধন বিভাজন, পরিচালক নিয়োগ, সাধারণ সভা ও কোম্পানির বার্ষিক বাধ্যবাধকতা সংক্রান্ত ৪০৪টি ধারা ও ১২টি অংশ নিয়ে গঠিত এই মূল আইনের প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় এখানে সহজ ভাষায়, উদাহরণসহ ব্যাখ্যা করা হয়েছে — উদ্যোক্তা, শিক্ষার্থী ও কোম্পানি সচিবদের জন্য একটি ব্যবহারিক রেফারেন্স হিসেবে।

১২

মূল অংশ (Parts)

৪০৪

মোট ধারা

২+

প্রাইভেট কোম্পানির ন্যূনতম সদস্য

৫০

প্রাইভেট কোম্পানির সর্বোচ্চ সদস্য

কোম্পানী আইন, ১৯৯৪ কী এবং কেন গুরুত্বপূর্ণ?

কোম্পানী আইন, ১৯৯৪ (Act No. 18 of 1994) হলো বাংলাদেশে কোম্পানি গঠন, পরিচালনা ও বিলোপসাধন সংক্রান্ত মূল আইন। এটি পূর্ববর্তী ১৯১৩ সালের কোম্পানি আইনকে একত্রীকরণ ও সংশোধন করে প্রণীত হয় এবং যুক্তস্টক কোম্পানি ও ফার্মসমূহের নিবন্ধক (RJSC) এই আইনের আলোকে কোম্পানি নিবন্ধনের দায়িত্ব পালন করে। প্রাইভেট লিমিটেড কোম্পানি, পাবলিক লিমিটেড কোম্পানি, গ্যারান্টি দ্বারা সীমাবদ্ধ কোম্পানি এবং বিদেশী কোম্পানির কার্যক্রম — সবকিছুই এই একটি আইনের অধীনে নিয়ন্ত্রিত হয়।

এই টুলটি আইনের জটিল ভাষাকে ভেঙে সহজ, দৈনন্দিন বাংলায় উপস্থাপন করে — যাতে একজন নতুন উদ্যোক্তা, ব্যবসায়িক শিক্ষার্থী বা কোম্পানি সচিব দ্রুত প্রয়োজনীয় ধারা খুঁজে নিতে পারেন। এটি কোনো আইনি পরামর্শ নয়; সুনির্দিষ্ট সিদ্ধান্তের আগে একজন আইনজীবী বা আরজেএসসি-র সাথে পরামর্শ করুন।

ধারা ব্যাখ্যা অনুসন্ধান করুন

৪০টিরও বেশি বিষয়ভিত্তিক সরলীকৃত ব্যাখ্যা অনুসন্ধান করুন — কীওয়ার্ড লিখুন বা বিষয় অনুসারে ফিল্টার করুন, যেমন "পরিচালক", "OPC", "চার্জ", "প্রসপেক্টাস" বা "নাম পরিবর্তন"।

কোনো ধারা পাওয়া যায়নি

অন্য কোনো শব্দ দিয়ে আবার চেষ্টা করুন, যেমন "ডিভিডেন্ড" বা "অডিটর"।

কোম্পানী (দ্বিতীয় সংশোধন) আইন, ২০২০

এক ব্যক্তি কোম্পানি (One Person Company / OPC)

২০২০ সালের সংশোধনীর মাধ্যমে কোম্পানী আইন, ১৯৯৪ এ একটি সম্পূর্ণ নতুন অংশ (দশম-ক খণ্ড) যুক্ত হয়, যা একক উদ্যোক্তাকে নামমাত্র অংশীদার ছাড়াই সম্পূর্ণ লিমিটেড লায়াবিলিটি কোম্পানি গঠনের সুযোগ দেয় — যা আগে বাংলাদেশে সম্ভব ছিল না।

শেয়ারহোল্ডার কে হতে পারেন?

ধারা ২(১)(খখ) অনুসারে OPC-র শেয়ারহোল্ডার হতে হবে একজন একক প্রাকৃতিক ব্যক্তি (natural person) — কোনো কোম্পানি বা প্রতিষ্ঠান নয়। একজন ব্যক্তি একই সময়ে একাধিক OPC-র মালিক হতে পারবেন না।

পরিশোধিত মূলধনের সীমা

OPC-র পরিশোধিত শেয়ার মূলধন ন্যূনতম ২৫ লক্ষ টাকা এবং সর্বোচ্চ ৫ কোটি টাকা হতে হয়। এই সীমা বা বার্ষিক টার্নওভার অতিক্রম করলে নির্ধারিত শর্ত পূরণ সাপেক্ষে কোম্পানিকে প্রাইভেট বা পাবলিক লিমিটেড কোম্পানিতে রূপান্তর করতে হয়।

নমিনি বাধ্যতামূলক

নিবন্ধনের সময় একজন নমিনি নির্ধারণ করতে হয়, যিনি মালিকের মৃত্যু বা অক্ষমতার ক্ষেত্রে শেয়ার ও পরিচালনার দায়িত্ব গ্রহণ করবেন। নমিনি যেকোনো সময় পরিবর্তনযোগ্য, ব্যাংক নমিনির মতোই।

নামের শেষে কী লিখতে হয়?

ধারা ১১ক(গ) অনুসারে কোম্পানির নামের শেষে "এক ব্যক্তি কোম্পানি" বা "One Person Company" বা "OPC" উল্লেখ বাধ্যতামূলক, যাতে তৃতীয় পক্ষ কোম্পানির আইনি গঠন সহজেই বুঝতে পারে।

সুবিধা: OPC-তে আলাদা বোর্ড সভা ও কোরাম সংক্রান্ত আনুষ্ঠানিকতায় উল্লেখযোগ্য ছাড় পাওয়া যায়, কারণ মালিক ও পরিচালক একই ব্যক্তি। ফলে আগে যেমন কেবল আইনি প্রয়োজনে দ্বিতীয় একজন "নামমাত্র শেয়ারহোল্ডার" রাখতে হতো, এখন তা আর প্রয়োজন নেই।

আইনের ১২টি অংশের সংক্ষিপ্ত মানচিত্র

কোম্পানী আইন, ১৯৯৪ মূলত ১২টি অংশে (Part) বিভক্ত এবং ৪০৪টি ধারা ও একাধিক তফসিল নিয়ে গঠিত। নিচে প্রতিটি অংশের মূল বিষয়বস্তু সংক্ষেপে দেওয়া হলো।

I

প্রারম্ভিক বিধান

আইনের নাম, প্রয়োগ ও মূল সংজ্ঞাসমূহ (ধারা ১–৩)।

II

গঠন ও নিবন্ধন

মেমোরেন্ডাম, আর্টিকেলস ও নিবন্ধন প্রক্রিয়া (ধারা ৪–২৯)।

III

শেয়ার মূলধন

শেয়ার বণ্টন, হস্তান্তর, মূলধন বৃদ্ধি-হ্রাস (ধারা ৩০–৭৬)।

IV

ব্যবস্থাপনা ও প্রশাসন

সভা, পরিচালক, ব্যবস্থাপনা পরিচালক (ধারা ৭৭–১৮২)।

V

হিসাব ও নিরীক্ষা

হিসাব সংরক্ষণ, ব্যালেন্স শিট, নিরীক্ষক নিয়োগ (ধারা ১৮৩–২২৬)।

VI

একত্রীকরণ ও পুনর্গঠন

কোম্পানি একত্রীকরণ (amalgamation) ও পুনর্গঠন (ধারা ২২৮–২৩০)।

VII

অবলুপ্তি (Winding Up)

আদালত মাধ্যমে, স্বেচ্ছায় ও তদারকিতে অবলুপ্তি (ধারা ২৩১–৩৪০)।

VIII

প্রাক্তন কোম্পানির নিবন্ধন

পূর্ববর্তী আইনে গঠিত কোম্পানির রূপান্তর ও নিবন্ধন বিধান।

IX

বিদেশী কোম্পানি

বাংলাদেশে কার্যরত বিদেশী কোম্পানির দায় ও দাখিল বাধ্যবাধকতা (ধারা ৩৭৮–৩৮৭)।

X-ক

এক ব্যক্তি কোম্পানি

২০২০ সালের সংশোধনীতে যুক্ত হওয়া OPC গঠন ও পরিচালনার বিধান।

XI

নিবন্ধক ও তাদের কার্যালয়

RJSC-র ক্ষমতা, দায়িত্ব ও দলিল পরিদর্শন সংক্রান্ত বিধান।

XII

বিবিধ বিধান

অপরাধ, দণ্ড, আপিল ও অন্যান্য সাধারণ বিধান (ধারা ৩৮৮–৪০৪)।

কোম্পানি নিবন্ধনের ধাপসমূহ (আরজেএসসি অনুযায়ী)

কোম্পানী আইন, ১৯৯৪ এর ধারা ৫–২৬ অনুসারে নিবন্ধন প্রক্রিয়া কার্যকর হয়, বাস্তবে যা অনুসরণ করা হয় RJSC-র অনলাইন পোর্টালে

  1. নাম ছাড়পত্র (Name Clearance)

    RJSC-র অনলাইন পোর্টালে প্রস্তাবিত কোম্পানির নাম যাচাই করে ছাড়পত্র নিতে হয়; অনুমোদন সাধারণত নির্দিষ্ট মেয়াদের জন্য বলবৎ থাকে।

  2. স্মারকলিপি ও সংঘবিধি প্রণয়ন

    মেমোরেন্ডাম অব অ্যাসোসিয়েশন (MoA)আর্টিকেলস অব অ্যাসোসিয়েশন (AoA) তৈরি করতে হয় — ধারা ৬ ও ১৭ অনুসারে কোম্পানির উদ্দেশ্য, মূলধন ও অভ্যন্তরীণ নিয়ম নির্ধারণ করা হয়।

  3. মূলধন জমা ও ব্যাংক হিসাব

    বিদেশী শেয়ারহোল্ডার থাকলে অস্থায়ী ব্যাংক হিসাবে মূলধন রেমিট করতে হয় ও এনক্যাশমেন্ট সার্টিফিকেট সংগ্রহ করতে হয়; দেশীয় কোম্পানির জন্য আইনগতভাবে কোনো বাধ্যতামূলক সর্বনিম্ন মূলধন নেই।

  4. অনলাইন আবেদন দাখিল

    ধারা ২৩ অনুসারে স্মারকলিপি ও সংঘবিধি নিবন্ধকের কাছে দাখিল করতে হয়; প্রয়োজনীয় ফরম (যেমন ফরম IX, X, XII) ও পরিচয়পত্র সংযুক্ত করতে হয়।

  5. নিবন্ধন ফি পরিশোধ

    অনুমোদিত মূলধনের পরিমাণের ভিত্তিতে স্তরভিত্তিক সরকারি ফি ও স্ট্যাম্প ডিউটি পরিশোধ করতে হয় — তফসিল-২ অনুযায়ী নির্ধারিত হারে।

  6. নিবন্ধন সনদ ইস্যু

    ধারা ২৪ ও ২৫ অনুযায়ী নিবন্ধক "ইনকরপোরেশন সার্টিফিকেট" ইস্যু করেন — এই তারিখ থেকেই কোম্পানি একটি স্বতন্ত্র আইনি সত্তা (body corporate) হিসেবে কার্যকর হয়।

মনে রাখুন: কোম্পানী আইন, ১৯৯৪ অনুযায়ী প্রাইভেট লিমিটেড কোম্পানির জন্য ন্যূনতম দুই জন এবং সর্বোচ্চ পঞ্চাশ জন সদস্য (কর্মচারী ব্যতীত) থাকতে পারে [ধারা ২(১)(ঙ)], এবং পাবলিক কোম্পানি গঠনে ন্যূনতম সাত জন সদস্য প্রয়োজন [ধারা ৫]।

কোম্পানির ধরন: প্রাইভেট বনাম পাবলিক

ধারা ২(১)(ঙ) ও ২(১)(চ) অনুযায়ী এই দুই ধরনের কোম্পানির মধ্যে মূল পার্থক্যগুলো নিচে দেওয়া হলো।

বৈশিষ্ট্য প্রাইভেট লিমিটেড কোম্পানি পাবলিক লিমিটেড কোম্পানি
সর্বনিম্ন সদস্য ২ জন ৭ জন
সর্বোচ্চ সদস্য ৫০ জন (কর্মচারী বাদে) কোনো সীমা নেই
শেয়ার হস্তান্তর সংঘবিধি দ্বারা সীমাবদ্ধ অবাধে হস্তান্তরযোগ্য
জনগণের কাছে শেয়ার আহ্বান নিষিদ্ধ অনুমোদিত (প্রসপেক্টাসের মাধ্যমে)
সর্বনিম্ন পরিচালক ২ জন ৩ জন
স্ট্যাটুটরি মিটিং বাধ্যতামূলক প্রয়োজন নেই [ধারা ৮৩(১২)] বাধ্যতামূলক [ধারা ৮৩]

তথ্যসূত্র: কোম্পানী আইন, ১৯৯৪ এর ধারা ২, ৫, ৯০ ও ৮৩ এবং বাস্তবিক নিবন্ধন চর্চা।

নিবন্ধনের জন্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্র

RJSC-তে আবেদনের আগে নিচের দলিলপত্র প্রস্তুত রাখলে প্রক্রিয়া দ্রুত সম্পন্ন হয়।

কোম্পানি-সংক্রান্ত দলিল

  • RJSC থেকে প্রাপ্ত নাম ছাড়পত্র (Name Clearance Certificate)
  • মেমোরেন্ডাম অব অ্যাসোসিয়েশন (MoA) — সর্বোচ্চ ৪০০ শব্দ ও ৭টি ধারায় উদ্দেশ্য বর্ণনা
  • আর্টিকেলস অব অ্যাসোসিয়েশন (AoA)
  • নিবন্ধিত কার্যালয়ের ঠিকানার প্রমাণ (ভাড়া চুক্তি/মালিকানা দলিল)
  • পরিচালকদের সম্মতিপত্র (Form IX, X, XII)

ব্যক্তি-সংক্রান্ত দলিল (প্রতি পরিচালক/শেয়ারহোল্ডার)

  • জাতীয় পরিচয়পত্র (NID) বা পাসপোর্টের কপি
  • পাসপোর্ট সাইজের ছবি
  • টিআইএন (TIN) সার্টিফিকেট
  • মোবাইল নম্বর ও ই-মেইল ঠিকানা
  • বিদেশী শেয়ারহোল্ডারের ক্ষেত্রে এনক্যাশমেন্ট সার্টিফিকেট (প্রযোজ্য হলে)

দ্রষ্টব্য: এক ব্যক্তি কোম্পানি (OPC) নিবন্ধনে অতিরিক্তভাবে একজন নমিনির অনুরূপ কাগজপত্রও জমা দিতে হয়; প্রাথমিক নিবন্ধনের সময় ট্রেড লাইসেন্সের প্রয়োজন হয় না — তা নিবন্ধনের পরে সংগ্রহ করা যায়।

কোম্পানির নামের শেষে কী লিখতে হয়? (ধারা ১১ক)

২০২০ সালের সংশোধনীতে যুক্ত হওয়া এই বিধান অনুযায়ী কোম্পানির ধরন নামেই স্পষ্ট করতে হয়, যাতে তৃতীয় পক্ষ সহজে দায়বদ্ধতার ধরন বুঝতে পারে।

পাবলিক লিমিটেড কোম্পানি

নামের শেষে "পাবলিক সীমিতদায় কোম্পানি" বা "PLC." লিখতে হয়।

প্রাইভেট লিমিটেড কোম্পানি

নামের শেষে "সীমিতদায় কোম্পানি" বা "Ltd." লিখতে হয়।

এক ব্যক্তি কোম্পানি (OPC)

নামের শেষে "এক ব্যক্তি কোম্পানি" বা "OPC" লিখতে হয়।

ব্যতিক্রম: ধারা ২৮-এর অধীন অলাভজনক সমিতি এবং ধারা ২৯-এর অধীন গ্যারান্টি দ্বারা সীমিতদায় কোম্পানির ক্ষেত্রে এই OPC সংক্রান্ত সাফিক্স প্রযোজ্য নয়।

নিবন্ধন ফি কীভাবে নির্ধারিত হয়?

তফসিল-২ (ধারা ৩৪৮ ও ৩৬৩) অনুযায়ী RJSC-র সরকারি ফি অনুমোদিত মূলধনের পরিমাণের ভিত্তিতে স্তরভিত্তিকভাবে নির্ধারিত হয়। সুনির্দিষ্ট ও হালনাগাদ হারের জন্য সর্বদা RJSC-র অফিসিয়াল ফি গেজেট যাচাই করুন।

নিবন্ধন ফি নির্ভর করে যার উপর বিবরণ
অনুমোদিত মূলধনের পরিমাণমূলধন যত বেশি, ফি-র স্তরও তত বেশি — স্তরভিত্তিক কাঠামো অনুসরণ করা হয়।
নাম ছাড়পত্র ফিপ্রতিটি নাম অনুসন্ধান ও ছাড়পত্রের আবেদনের জন্য পৃথক ফি প্রযোজ্য।
স্ট্যাম্প ডিউটিমেমোরেন্ডাম ও আর্টিকেলসের উপর সরকার নির্ধারিত স্ট্যাম্প শুল্ক প্রদান করতে হয়।
পরবর্তী ফরম দাখিল ফিমূলধন বৃদ্ধি, চার্জ নিবন্ধন বা পরিচালক পরিবর্তনের মতো ফরমের জন্য আলাদা ফি প্রযোজ্য।

তথ্যসূত্র: কোম্পানী আইন, ১৯৯৪ এর তফসিল-২ এবং RJSC-র প্রকাশিত ফি গেজেট। হার পরিবর্তনযোগ্য — roc.gov.bd-এ সর্বশেষ গেজেট দেখে নিশ্চিত হন।

না মানলে কী হয়? কিছু উদাহরণস্বরূপ দণ্ড

কোম্পানী আইন, ১৯৯৪ অনুপালনে ব্যর্থতার জন্য নির্দিষ্ট আর্থিক জরিমানা বা কারাদণ্ডের বিধান রয়েছে। নিচে কয়েকটি প্রতিনিধিত্বমূলক উদাহরণ দেওয়া হলো (সম্পূর্ণ তালিকা নয়)।

লঙ্ঘন প্রাসঙ্গিক ধারা সম্ভাব্য দণ্ড
নাম পরিবর্তনের নির্দেশ অমান্য করাধারা ১১(৩)প্রতিদিনের জন্য জরিমানা — কোম্পানি ও দায়ী কর্মকর্তা উভয়ের উপর
সদস্য রেজিস্টার সংরক্ষণে ব্যর্থতাধারা ৩৪প্রতিদিনের জন্য নির্ধারিত জরিমানা
এজিএম অনুষ্ঠানে ব্যর্থতাধারা ৮২কোম্পানি ও দায়ী কর্মকর্তার জন্য জরিমানা, ক্রমাগত ব্যর্থতায় দৈনিক বর্ধিত জরিমানা
দেউলিয়া ব্যক্তির পরিচালক হিসেবে কাজ করাধারা ৯৯কারাদণ্ড অথবা জরিমানা অথবা উভয়ই
পাওনাদারের নাম গোপন বা মিথ্যা তথ্য (মূলধন হ্রাসের সময়)ধারা ৬৮কারাদণ্ড (সর্বোচ্চ দুই বছর) অথবা জরিমানা অথবা উভয়ই

দণ্ডের প্রকৃত পরিমাণ সময়ে সময়ে সংশোধিত হতে পারে। সুনির্দিষ্ট মামলায় প্রযোজ্য দণ্ড নিশ্চিত করতে একজন আইনজীবীর পরামর্শ নিন।

আইনের গুরুত্বপূর্ণ সংশোধনীসমূহ

সময়ের সাথে কোম্পানী আইন, ১৯৯৪-এ একাধিকবার সংশোধনী আনা হয়েছে। নিচে সাম্প্রতিক কিছু গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তনের সংক্ষিপ্তসার দেওয়া হলো।

১৯৯৪

মূল আইন প্রণয়ন

১৯১৩ সালের কোম্পানি আইনকে একত্রীকরণ ও সংশোধন করে কোম্পানী আইন, ১৯৯৪ (Act No. 18 of 1994) প্রণীত হয় এবং ১৯৯৪ সালের ১ ডিসেম্বর কার্যকর হয়।

২০২০

কোম্পানী (সংশোধন) আইন, ২০২০

কোম্পানির কমন সীল ব্যবহার সংক্রান্ত বিধান সহজীকরণ ও আধুনিকায়ন করা হয়।

২৬ নভেম্বর, ২০২০

কোম্পানী (দ্বিতীয় সংশোধন) আইন, ২০২০

এই সংশোধনীর মাধ্যমে বাংলাদেশে প্রথমবারের মতো এক ব্যক্তি কোম্পানি (OPC) গঠনের সুযোগ চালু হয় (নতুন দশম-ক খণ্ড) এবং ধারা ১১ক-এর মাধ্যমে কোম্পানির নামের শেষে "Ltd.", "PLC." বা "OPC" উল্লেখ বাধ্যতামূলক করা হয়।

২০২২ ও পরবর্তী

ডিজিটাল ব্যবসায়িক পরিচয় (DBID) ও অনলাইন প্রক্রিয়া

RJSC-র অনলাইন পোর্টালে নিবন্ধন প্রক্রিয়া সম্প্রসারিত হয় এবং ডিজিটাল বিজনেস আইডেন্টিটি (DBID) নিবন্ধনের নির্দেশিকা প্রকাশিত হয়, যা প্রক্রিয়াকে আরও দ্রুত ও কাগজবিহীন করে তোলে।

আইন সময়ে সময়ে আরও সংশোধিত হতে পারে। সর্বশেষ হালনাগাদের জন্য bdlaws.minlaw.gov.bd পরিদর্শন করুন।

গুরুত্বপূর্ণ পরিভাষা এক নজরে

ধারা ২ এর সংজ্ঞা অংশে উল্লেখিত শব্দগুলোর সহজ ব্যাখ্যা।

সচরাচর জিজ্ঞাসিত প্রশ্নাবলী

কোম্পানী আইন, ১৯৯৪ সম্পর্কে সবচেয়ে বেশি জিজ্ঞাসিত প্রশ্নের সংক্ষিপ্ত ও সরাসরি উত্তর।

সহায়ক রেফারেন্স ও আরও পড়ুন

এই গাইডে ব্যবহৃত কিছু গুরুত্বপূর্ণ ধারণা সম্পর্কে আরও গভীরভাবে জানতে নিচের উইকিপিডিয়া সংযোগগুলো দেখুন:

  • কোম্পানি (Company) — আইনি সত্তা হিসেবে কোম্পানির ধারণা
  • Limited liability — সীমিত দায়বদ্ধতার মূলনীতি
  • Articles of association — সংঘবিধির আন্তর্জাতিক প্রেক্ষাপট
  • Memorandum of association — মেমোরেন্ডামের ধারণা ও ইতিহাস
  • Board of directors — পরিচালনা পরিষদের ভূমিকা
  • Annual general meeting — বার্ষিক সাধারণ সভার আন্তর্জাতিক চর্চা
  • One-person company — এক ব্যক্তি কোম্পানির আন্তর্জাতিক ধারণা
  • Prospectus (finance) — শেয়ার ইস্যুর প্রসপেক্টাসের আন্তর্জাতিক প্রেক্ষাপট

দাবিত্যাগ: এই কনটেন্ট শুধুমাত্র সাধারণ তথ্য ও শিক্ষামূলক উদ্দেশ্যে প্রস্তুত করা হয়েছে এবং এটি আইনি পরামর্শ নয়। নির্ভুল ও হালনাগাদ ধারার জন্য সর্বদা bdlaws.minlaw.gov.bd-এ প্রকাশিত মূল আইন এবং roc.gov.bd দেখুন।

Aeenx Footer

booked from Bangladesh Booking Notification

Aeenx Chatbot