Contact Now
Select your region
জয়েন্ট স্টক থেকে নতুন কোম্পানি নিবন্ধন | RJSC প্রাইভেট লিমিটেড, OPC ও পার্টনারশিপ ২০২৬
RJSC অনলাইন পোর্টাল — আপডেটেড ২০২৬

জয়েন্ট স্টক থেকে আপনার
নতুন কোম্পানি নিবন্ধন করুন

যৌথমূলধন কোম্পানি ও ফার্মসমূহের পরিদপ্তর (RJSC)-এ প্রাইভেট লিমিটেড কোম্পানি, ওয়ান পারসন কোম্পানি (OPC), পার্টনারশিপ ফার্ম ও বিদেশি কোম্পানির অফিস নিবন্ধনের সম্পূর্ণ প্রক্রিয়া, প্রামাণিক ফি শিডিউল ও আইনি তথ্য একটি জায়গায়।

১৯৬২
RJSC প্রতিষ্ঠা
সাল
৫+
নিবন্ধন
বিভাগ
১০০%
অনলাইন
প্রক্রিয়া
নাম অনুমোদন
MOA/AOA তৈরি
অনলাইন আবেদন
ফি পরিশোধ
সার্টিফিকেট গ্রহণ
২০২৬ হালনাগাদ: RJSC কার্যক্রম সম্পূর্ণ ডিজিটাল — নাম ছাড়পত্র থেকে সার্টিফিকেট অব ইনকর্পোরেশন পর্যন্ত সবকিছু app.roc.gov.bd পোর্টালের মাধ্যমে ঘরে বসেই সম্পন্ন করা যায়। নিবন্ধন ফি অনলাইনে নির্ধারিত ব্যাংকের মাধ্যমে পরিশোধযোগ্য।
২০টির মধ্যে ২০টি প্রশ্ন
🏛️ প্রতিষ্ঠান পরিচিতি

রেজিস্ট্রার অব জয়েন্ট স্টক কোম্পানিজ অ্যান্ড ফার্মস (RJSC) হলো বাংলাদেশ সরকারের বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অধীনে পরিচালিত একটি নিয়ন্ত্রক সংস্থা, যা ১৯৬২ সালে প্রথমে চট্টগ্রামে প্রতিষ্ঠিত হয় এবং পরে ঢাকায় প্রধান কার্যালয় স্থানান্তরিত হয়।

এই সংস্থার প্রধান কাজগুলো হলো:

  • কোম্পানি নিবন্ধন: কোম্পানি আইন, ১৯৯৪ অনুযায়ী প্রাইভেট লিমিটেড, পাবলিক লিমিটেড ও ওয়ান পারসন কোম্পানি নিবন্ধন
  • পার্টনারশিপ ফার্ম: পার্টনারশিপ আইন, ১৯৩২ অনুযায়ী যৌথ ব্যবসা প্রতিষ্ঠান নিবন্ধন
  • ট্রেড অর্গানাইজেশন: ব্যবসায়িক সংগঠন ও সমিতি নিবন্ধন
  • বার্ষিক ফাইলিং তদারকি: নিবন্ধিত প্রতিষ্ঠানের বার্ষিক তথ্য ও রিটার্ন গ্রহণ ও সংরক্ষণ
  • কর্পোরেট পরিবর্তন অনুমোদন: পরিচালক পরিবর্তন, মূলধন বৃদ্ধি, ঠিকানা পরিবর্তন ইত্যাদি অনুমোদন

বৈধভাবে ব্যবসা পরিচালনা, ব্যাংক ঋণ, সরকারি টেন্ডার অংশগ্রহণ ও বিনিয়োগকারী আকৃষ্ট করতে RJSC নিবন্ধন একটি আইনি পূর্বশর্ত।

🏢 কোম্পানির ধরন

আপনার ব্যবসার প্রকৃতি, অংশীদার সংখ্যা ও দায়বদ্ধতার পরিধির উপর নির্ভর করে নিচের যেকোনো একটি গঠন বেছে নেওয়া সম্ভব:

  • প্রাইভেট লিমিটেড কোম্পানি: সবচেয়ে জনপ্রিয় গঠন। ২ থেকে ৫০ জন শেয়ারহোল্ডার, সীমিত দায়, পৃথক আইনি সত্তা — স্টার্টআপ, এসএমই ও মধ্যমাপের ব্যবসার জন্য আদর্শ
  • ওয়ান পারসন কোম্পানি (OPC): একক উদ্যোক্তার জন্য সীমিত দায়সম্পন্ন কোম্পানি গঠনের বিকল্প — ফ্রিল্যান্সার, কনসালট্যান্ট ও একক মালিকের ব্যবসার জন্য উপযুক্ত
  • পাবলিক লিমিটেড কোম্পানি: শেয়ার বাজারে তালিকাভুক্তির সুবিধাসহ বৃহৎ প্রতিষ্ঠানের জন্য — ন্যূনতম ৭ জন শেয়ারহোল্ডার প্রয়োজন
  • পার্টনারশিপ ফার্ম: দুই বা তার বেশি অংশীদারের যৌথ ব্যবসা — অপেক্ষাকৃত কম খরচে গঠনযোগ্য, তবে দায় সীমিত নয়
  • বিদেশি কোম্পানির ব্রাঞ্চ অফিস: বিদেশি মাতৃকোম্পানির বাংলাদেশি শাখা — BIDA অনুমোদন সাপেক্ষে RJSC-তে নিবন্ধিত
  • লিয়াজোঁ / রিপ্রেজেন্টেটিভ অফিস: প্রতিনিধিত্বমূলক কার্যক্রমের জন্য — সরাসরি বাণিজ্যিক আয় উৎপাদন করতে পারে না
  • ট্রেড অর্গানাইজেশন: ব্যবসায়ী সমিতি, চেম্বার অব কমার্স বা পেশাদার সংগঠনের জন্য
🏷️ নাম ছাড়পত্র

নাম ছাড়পত্র হলো কোম্পানি নিবন্ধনের প্রথম ও বাধ্যতামূলক ধাপ। RJSC-এর নির্দেশিকা অনুযায়ী, যে প্রতিষ্ঠানের নিবন্ধন করতে হবে তার প্রস্তাবিত নামে ইতিমধ্যে অন্য কোনো প্রতিষ্ঠান নিবন্ধিত কিনা তা যাচাই করাই এর উদ্দেশ্য।

  • আবেদন: RJSC-এর অনলাইন পোর্টালে (app.roc.gov.bd) অ্যাকাউন্ট করে নাম অনুসন্ধান ও ছাড়পত্রের আবেদন করুন
  • বিকল্প নাম: প্রত্যাখ্যানের ঝুঁকি এড়াতে ২-৩টি পছন্দের নাম ক্রমানুযায়ী জমা দেওয়া সুবিধাজনক
  • ফি: নাম ছাড়পত্রের জন্য নির্ধারিত একটি স্বল্প ফি অনলাইনে পরিশোধ করতে হয়
  • প্রক্রিয়াকাল: সাধারণত ১-২ কার্যদিবসের মধ্যে অনুমোদন বা প্রত্যাখ্যানের সিদ্ধান্ত জানা যায়
  • মেয়াদ: অনুমোদিত নাম সাধারণত ৩০ দিনের জন্য সংরক্ষিত থাকে, প্রয়োজনে নবায়নযোগ্য
  • নিষিদ্ধ নাম: বিদ্যমান প্রতিষ্ঠানের অনুরূপ, সরকারি প্রতিষ্ঠানের নামের মিল, আপত্তিকর বা বিভ্রান্তিমূলক শব্দ অনুমোদন পায় না

নাম ছাড়পত্র পাওয়ার পরই MOA ও AOA-তে সেই নামটি ব্যবহার করে পরবর্তী ধাপে অগ্রসর হওয়া যায়।

📄 মূল দলিল

MOA ও AOA হলো কোম্পানি নিবন্ধনের দুটি অপরিহার্য আইনি দলিল, যা RJSC-এর নির্ধারিত ফরম্যাটে তৈরি করতে হয়:

  • মেমোরেন্ডাম অব অ্যাসোসিয়েশন (MOA): কোম্পানির নাম, রেজিস্টার্ড অফিসের ঠিকানা, ব্যবসার উদ্দেশ্য ও পরিধি, অনুমোদিত মূলধনের পরিমাণ ও শেয়ার বিভাজন এবং দায়বদ্ধতার ধরন উল্লেখ থাকে। এটি কোম্পানি ও বাইরের বিশ্বের সম্পর্ক নির্ধারণ করে।
  • আর্টিকেল অব অ্যাসোসিয়েশন (AOA): পরিচালনা পদ্ধতি, বোর্ড মিটিং পরিচালনার নিয়ম, শেয়ার হস্তান্তর প্রক্রিয়া, ভোটাধিকার বিভাজন ও মুনাফা বণ্টনের বিস্তারিত নির্দেশিকা থাকে। এটি কোম্পানির অভ্যন্তরীণ শাসনের সংবিধান।

স্ট্যাম্প ডিউটি:

  • MOA-র জন্য: ২,০০০ টাকা (সরকার নির্ধারিত)
  • AOA-র জন্য: অনুমোদিত মূলধন ৪০ লাখ টাকা পর্যন্ত ১০,০০০ টাকা; ৪০ লাখ থেকে ১২ কোটি পর্যন্ত ৩০,০০০ টাকা; ১২ কোটির উপরে ৫০,০০০ টাকা

ভবিষ্যতের বিরোধ এড়াতে MOA ও AOA পেশাদারভাবে প্রস্তুত করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

📋 কাগজপত্র তালিকা

কোম্পানি আইন, ১৯৯৪ অনুযায়ী প্রাইভেট লিমিটেড কোম্পানি নিবন্ধনে নিচের দলিলসমূহ আবেদনের সাথে জমা দিতে হয়:

  • নাম ছাড়পত্রের অনুমোদন পত্র
  • স্ট্যাম্পযুক্ত মেমোরেন্ডাম অব অ্যাসোসিয়েশন (MOA) — সকল শেয়ারহোল্ডারের স্বাক্ষর ও সাক্ষী স্বাক্ষরসহ
  • স্ট্যাম্পযুক্ত আর্টিকেল অব অ্যাসোসিয়েশন (AOA) — একই স্বাক্ষরসহ
  • ফরম IX: প্রত্যেক পরিচালকের সম্মতিপত্র (Consent of Directors)
  • ফরম XII: পরিচালকদের ব্যক্তিগত তথ্য বিবরণী (Particulars of Directors)
  • সকল পরিচালক ও শেয়ারহোল্ডারের জাতীয় পরিচয়পত্র (NID) — স্পষ্ট রঙিন স্ক্যান কপি
  • পরিচালক ও শেয়ারহোল্ডারদের সাম্প্রতিক পাসপোর্ট সাইজ ছবি
  • রেজিস্টার্ড অফিসের ঠিকানা প্রমাণ: ভাড়া চুক্তিনামা বা সম্পত্তির মালিকানা দলিল
  • পরিশোধিত মূলধনের ব্যাংক সার্টিফিকেট (স্থানীয় শেয়ারহোল্ডারের ক্ষেত্রে)

অসম্পূর্ণ বা ভুলযুক্ত কাগজপত্র আবেদন বাতিল বা দীর্ঘ বিলম্বের প্রধান কারণ। সব নথি জমার আগে একটি যাচাই তালিকার বিপরীতে পরীক্ষা করুন।

🔄 নিবন্ধন প্রক্রিয়া

RJSC-এর ওয়েবসাইটে প্রকাশিত নির্দেশিকা অনুযায়ী নিবন্ধনের পরিপূর্ণ প্রক্রিয়া:

  • ধাপ ১ — পোর্টাল অ্যাকাউন্ট: app.roc.gov.bd-তে ইমেইল ও মোবাইল নম্বর দিয়ে ব্যবহারকারী নিবন্ধন করুন
  • ধাপ ২ — নাম ছাড়পত্র: প্রস্তাবিত নাম অনুসন্ধান করে অনলাইনে আবেদন ও ফি পরিশোধ করুন
  • ধাপ ৩ — দলিল প্রস্তুতি: RJSC নির্ধারিত ফরম্যাটে MOA ও AOA তৈরি, স্ট্যাম্প ও স্বাক্ষর সম্পন্ন করুন
  • ধাপ ৪ — ব্যাংক সার্টিফিকেট: শেয়ারহোল্ডারদের পরিশোধিত মূলধনের ব্যাংক সার্টিফিকেট সংগ্রহ করুন
  • ধাপ ৫ — অনলাইন আবেদন: পোর্টালে MOA, AOA, ফরম IX, ফরম XII সহ সকল নথি স্ক্যান করে আপলোড করুন এবং কোম্পানির বিবরণ পূরণ করুন
  • ধাপ ৬ — ফি পরিশোধ: নির্ধারিত তফসিলি ব্যাংকের মাধ্যমে নিবন্ধন ফি ও স্ট্যাম্প ডিউটি অনলাইনে প্রদান করুন
  • ধাপ ৭ — যাচাই ও অনুমোদন: RJSC কর্মকর্তারা আবেদন যাচাই করেন এবং সন্তুষ্ট হলে সার্টিফিকেট ইস্যু করেন
  • ধাপ ৮ — সার্টিফিকেট ডাউনলোড: পোর্টাল থেকে ডিজিটাল সার্টিফিকেট অব ইনকর্পোরেশন, MOA ও AOA-এর সত্যায়িত কপি ডাউনলোড করুন
💰 ফি শিডিউল

RJSC-এর ফি শিডিউল গেজেট ২০২৩ অনুযায়ী প্রাইভেট কোম্পানির জন্য ফি কয়েকটি উপাদান নিয়ে গঠিত:

স্ট্যাম্প ডিউটি (Stamp Fee):

বিষয়ফি (টাকা)
MOA স্ট্যাম্প ডিউটি২,০০০
AOA (মূলধন ৪০ লাখ পর্যন্ত)১০,০০০
AOA (৪০ লাখ — ১২ কোটি)৩০,০০০
AOA (১২ কোটির উপরে)৫০,০০০

নিবন্ধন ফি: অনুমোদিত মূলধনের পরিমাণ অনুযায়ী স্ল্যাব হারে নির্ধারিত — মূলধন যত বেশি, ফি তত বেশি।

ফাইলিং ফি: ফরম IX, ফরম XII ও অন্যান্য নথি দাখিলের জন্য প্রতিটিতে পৃথক ফি প্রযোজ্য। পার্টনারশিপ ফার্মের ক্ষেত্রে নিবন্ধন ফি ৫,০০০ টাকা এবং ফাইলিং ফি ৫০০ টাকা।

সর্বশেষ নির্ভুল ফি শিডিউলের জন্য সরাসরি RJSC-এর ওয়েবসাইট বা পোর্টাল দেখুন, কারণ ফি পরিবর্তন হতে পারে।

⏱️ সময়কাল

প্রক্রিয়াকাল কাগজপত্রের সম্পূর্ণতা, কোম্পানির জটিলতা ও RJSC-এর কার্যচাপের উপর নির্ভর করে পরিবর্তিত হয়:

  • নাম ছাড়পত্র: ১–২ কার্যদিবস
  • MOA/AOA প্রস্তুতি ও স্বাক্ষর: ১–৩ দিন (অংশীদারের সংখ্যার উপর নির্ভর করে)
  • সম্পূর্ণ নির্ভুল আবেদনের ক্ষেত্রে: সাধারণত ৫–১০ কার্যদিবসের মধ্যে সার্টিফিকেট প্রদান
  • বিদেশি বিনিয়োগ সংশ্লিষ্ট আবেদন: BIDA ও বাংলাদেশ ব্যাংক অনুমোদনের কারণে অতিরিক্ত ২–৪ সপ্তাহ প্রয়োজন হতে পারে
  • নিবন্ধন-পরবর্তী সম্পূর্ণ প্রস্তুতি: TIN, ট্রেড লাইসেন্স ও VAT নিবন্ধনসহ মোট ১৫–২০ কার্যদিবস

সঠিক ও সম্পূর্ণ কাগজপত্র থাকলে এবং পেশাদার সহায়তায় আবেদন করলে প্রক্রিয়া অনেক দ্রুততর হয়। অসম্পূর্ণ আবেদন RJSC কর্তৃক ফেরত পাঠানো হলে সময় উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যায়।

👤 OPC গঠন

ওয়ান পারসন কোম্পানি (One Person Company – OPC) হলো কোম্পানি আইন সংশোধনের মাধ্যমে একক উদ্যোক্তার জন্য প্রবর্তিত একটি বিশেষ কর্পোরেট কাঠামো:

  • একক মালিকানা + সীমিত দায়: একমাত্র শেয়ারহোল্ডার হয়েও প্রাইভেট লিমিটেড কোম্পানির মতো সীমিত দায়ের সুবিধা পাওয়া যায়
  • পৃথক আইনি সত্তা: কোম্পানির নামে ব্যাংক হিসাব, চুক্তি ও সম্পত্তি ধারণ করা যায়
  • নমিনি নিয়োগ: মালিকের মৃত্যু বা অক্ষমতার ক্ষেত্রে কোম্পানি পরিচালনার জন্য একজন নমিনি মনোনীত করতে হয়
  • উপযুক্ত ক্ষেত্র: ফ্রিল্যান্সার, আইটি পেশাদার, পরামর্শক, সৃজনশীল পেশাদার ও একক মালিকের সেবা ব্যবসার জন্য আদর্শ
  • কমপ্লায়েন্স সুবিধা: প্রাইভেট লিমিটেড কোম্পানির তুলনায় কিছু ক্ষেত্রে সহজতর পরিপালন বিধি

সীমাবদ্ধতা: OPC-তে শুধুমাত্র একজন শেয়ারহোল্ডার থাকতে পারেন। ভবিষ্যতে আরও বিনিয়োগকারী যুক্ত করতে হলে প্রাইভেট লিমিটেড কোম্পানিতে রূপান্তর করতে হবে।

🤝 পার্টনারশিপ

পার্টনারশিপ ফার্ম পার্টনারশিপ আইন, ১৯৩২ অনুযায়ী RJSC-তে নিবন্ধিত হয় — এটি প্রাইভেট লিমিটেড কোম্পানির চেয়ে ভিন্ন একটি সত্তা:

  • সহজ প্রক্রিয়া: MOA/AOA-র পরিবর্তে নোটারি পাবলিক সত্যায়িত পার্টনারশিপ ডিড বা চুক্তিনামা তৈরি করতে হয়
  • নিবন্ধন ফি: পার্টনারশিপ ফার্মের নিবন্ধন ফি ৫,০০০ টাকা ও ফাইলিং ফি ৫০০ টাকা
  • অংশীদার সংখ্যা: সাধারণ ব্যবসায় সর্বোচ্চ ২০ জন, ব্যাংকিং ব্যবসায় সর্বোচ্চ ১০ জন অংশীদার
  • অসীম দায়: প্রাইভেট লিমিটেড কোম্পানির বিপরীতে অংশীদারদের দায় সীমিত নয় — ব্যক্তিগত সম্পদও ব্যবসার দায়ে ব্যবহৃত হতে পারে
  • উপযুক্ত: ছোট ব্যবসা, ক্লিনিক, আইন ফার্ম বা অডিট ফার্মের জন্য তুলনামূলক কম খরচে উপযুক্ত
  • রূপান্তর সম্ভব: ভবিষ্যতে প্রয়োজনে পার্টনারশিপ থেকে প্রাইভেট লিমিটেড কোম্পানিতে রূপান্তর করা যায়
👥 শেয়ার কাঠামো

কোম্পানি আইন, ১৯৯৪ অনুযায়ী প্রাইভেট লিমিটেড কোম্পানির গঠন সংক্রান্ত মৌলিক বিধান:

  • সর্বনিম্ন শেয়ারহোল্ডার: ২ জন
  • সর্বোচ্চ শেয়ারহোল্ডার: ৫০ জন
  • সর্বনিম্ন পরিচালক: ২ জন — একই ব্যক্তি শেয়ারহোল্ডার ও পরিচালক উভয়ই হতে পারেন
  • কোম্পানি সচিব: নির্দিষ্ট মূলধন বা শেয়ারহোল্ডার সংখ্যার উপরে প্রতিষ্ঠানের জন্য বাধ্যতামূলক
  • অনুমোদিত মূলধন: ন্যূনতম বাধ্যতামূলক সীমা না থাকলেও ব্যবহারিকভাবে ১ লাখ টাকার উপরে রাখা সুবিধাজনক
  • পাবলিক লিমিটেড কোম্পানির ক্ষেত্রে: সর্বনিম্ন ৭ জন শেয়ারহোল্ডার ও ৩ জন পরিচালক প্রয়োজন

একক উদ্যোক্তার ক্ষেত্রে দুইজনের শর্ত পূরণ করা সম্ভব না হলে OPC গঠনই সর্বোত্তম বিকল্প।

🌍 বিদেশি বিনিয়োগ

বিদেশি শেয়ারহোল্ডার বা পরিচালক থাকলে স্থানীয় আবেদনের পাশাপাশি কিছু অতিরিক্ত নথি ও অনুমোদন প্রয়োজন হয়:

  • পাসপোর্ট কপি: NID-এর পরিবর্তে শেয়ারহোল্ডার/পরিচালকের বৈধ পাসপোর্টের স্পষ্ট রঙিন কপি
  • বিদেশি মূলধন রেমিট্যান্স: বিদেশ থেকে বিনিয়োগ টাকা অবশ্যই আনুষ্ঠানিক ব্যাংকিং চ্যানেলে আনতে হবে
  • এনক্যাশমেন্ট সার্টিফিকেট: বিদেশি মুদ্রা থেকে বাংলাদেশি টাকায় রূপান্তরের প্রামাণিক সনদ ব্যাংক থেকে নিতে হবে
  • BIDA নিবন্ধন: বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (BIDA)-তে বিদেশি বিনিয়োগ নিবন্ধন প্রয়োজন হতে পারে
  • বাংলাদেশ ব্যাংক অনুমোদন: নির্দিষ্ট ক্ষেত্রে বৈদেশিক মুদ্রা প্রত্যাবাসনের অনুমতির জন্য আলাদা আবেদন
  • ওয়ার্ক পারমিট: বিদেশি পরিচালক বা কর্মী বাংলাদেশে কাজ করলে BIDA থেকে ওয়ার্ক পারমিট আলাদাভাবে নিতে হবে
🌏 বিদেশি অফিস

বিদেশি কোম্পানি বাংলাদেশে সরাসরি অফিস স্থাপন করতে চাইলে দ্বিস্তরীয় অনুমোদন প্রক্রিয়া অনুসরণ করতে হয়:

  • BIDA প্রাথমিক অনুমোদন: বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ থেকে ব্রাঞ্চ, লিয়াজোঁ বা রিপ্রেজেন্টেটিভ অফিসের অনুমতি প্রথমে নিতে হবে
  • RJSC নিবন্ধন: BIDA অনুমোদনের পর মাতৃকোম্পানির দলিলসহ RJSC-তে বিদেশি কোম্পানি হিসেবে নিবন্ধন করতে হয়
  • লিয়াজোঁ অফিসের সীমাবদ্ধতা: লিয়াজোঁ অফিস বাংলাদেশে সরাসরি বাণিজ্যিক লেনদেন করতে পারে না — কার্যক্রম মূলত যোগাযোগ ও প্রতিনিধিত্বমূলক
  • ব্রাঞ্চ অফিস: মাতৃকোম্পানির অনুমোদিত কর্মকাণ্ডের মধ্যে বাণিজ্যিক কার্যক্রম পরিচালনা করতে পারে
  • বার্ষিক নবায়ন: BIDA-তে নিয়মিত কার্যক্রম প্রতিবেদন জমা ও অনুমতি নবায়ন বাধ্যতামূলক
  • প্রয়োজনীয় নথি: মাতৃকোম্পানির ইনকর্পোরেশন সার্টিফিকেট, বোর্ড রেজুলেশন, মেমোরেন্ডাম ও ব্যবসার সংক্ষিপ্তসার (Memorandum of Activities)
✅ নিবন্ধন-পরবর্তী

সার্টিফিকেট অব ইনকর্পোরেশন পাওয়ার পরে কোম্পানিকে পূর্ণাঙ্গভাবে চালু করতে পাঁচটি মূল কাজ সম্পন্ন করতে হয়:

  • TIN নিবন্ধন: জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (NBR) e-TIN পোর্টালে কোম্পানির কর শনাক্তকরণ নম্বর সংগ্রহ করুন — এটি ছাড়া ব্যাংক হিসাব খোলা যায় না
  • ট্রেড লাইসেন্স: কার্যালয়ের ঠিকানার স্থানীয় কর্তৃপক্ষ (সিটি কর্পোরেশন বা পৌরসভা) থেকে ট্রেড লাইসেন্স গ্রহণ করুন
  • VAT/BIN নিবন্ধন: বার্ষিক টার্নওভার ৩০ লাখ টাকার উপরে হলে NBR-এ মূল্য সংযোজন কর নিবন্ধন বাধ্যতামূলক
  • কর্পোরেট ব্যাংক হিসাব: RJSC সার্টিফিকেট, MOA, AOA ও TIN সনদ দিয়ে কোম্পানির স্থায়ী ব্যাংক হিসাব সক্রিয় করুন
  • বাংলাদেশ ব্যাংক রিপোর্টিং: বিদেশি শেয়ারহোল্ডার থাকলে শেয়ার ইস্যু সংক্রান্ত তথ্য বাংলাদেশ ব্যাংকে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে দাখিল করুন
🗂️ বার্ষিক কমপ্লায়েন্স

নিবন্ধনের পর প্রতিটি কোম্পানিকে কোম্পানি আইন, ১৯৯৪ অনুযায়ী চলমান আইনি বাধ্যবাধকতা পালন করতে হয়:

  • বার্ষিক সাধারণ সভা (AGM): প্রতি বছর নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে শেয়ারহোল্ডারদের সভা আহ্বান করা বাধ্যতামূলক
  • বার্ষিক রিটার্ন: AGM-এর পর নির্ধারিত ফরমে শেয়ারহোল্ডার, পরিচালক ও মূলধনের তথ্যসহ RJSC-তে বার্ষিক রিটার্ন দাখিল
  • আর্থিক বিবরণী দাখিল: নিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন RJSC-তে জমা দেওয়া প্রযোজ্য ক্ষেত্রে বাধ্যতামূলক
  • পরিবর্তন জানানো: পরিচালক পরিবর্তন, রেজিস্টার্ড অফিস পরিবর্তন বা শেয়ার হস্তান্তর RJSC-কে নির্ধারিত ফরমে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে জানাতে হবে
  • NBR আয়কর রিটার্ন: ব্যবসা লোকসানে থাকলেও প্রতি বছর আয়কর রিটার্ন দাখিল বাধ্যতামূলক
  • ট্রেড লাইসেন্স নবায়ন: প্রতি অর্থবছরে (জুলাই–জুন) স্থানীয় কর্তৃপক্ষের ট্রেড লাইসেন্স নবায়ন করতে হবে
⚠️ জরিমানা ও ঝুঁকি

নির্ধারিত সময়সীমার পরে RJSC-তে তথ্য জমা দিলে আইনি ও আর্থিক ঝুঁকি তৈরি হয়:

  • বিলম্ব ফাইলিং ফি: নির্ধারিত সময় পেরিয়ে গেলে নির্ধারিত ফি-এর অতিরিক্ত হারে সারচার্জ প্রযোজ্য হয়, যা বিলম্বের মাত্রা অনুযায়ী উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি হতে পারে
  • রেকর্ড অসামঞ্জস্যতা: পুরনো তথ্য RJSC রেকর্ডে থাকলে ব্যাংক ঋণ, সরকারি টেন্ডার ও ক্রেতা-পরিদর্শনে সমস্যা সৃষ্টি হয়
  • স্ট্রাইক-অফ (Strike-Off): দীর্ঘমেয়াদে নিষ্ক্রিয় থাকা ও রিটার্ন না দেওয়া কোম্পানিকে রেজিস্টার থেকে বাতিল করার বিধান রয়েছে
  • পরিচালকদের ব্যক্তিগত দায়: আইন ভঙ্গের কারণে পরিচালকদের বিরুদ্ধে ব্যক্তিগত আইনি পদক্ষেপের সম্ভাবনা
  • পুনঃসক্রিয়করণ ব্যয়: স্ট্রাইক-অফ হয়ে যাওয়ার পর পুনরুদ্ধারে উল্লেখযোগ্য সময় ও অতিরিক্ত আইনি ব্যয় হয়

নিয়মিত কমপ্লায়েন্স বজায় রাখাই সবচেয়ে সাশ্রয়ী ও ঝুঁকিমুক্ত পদ্ধতি।

⚖️ আইনি কাঠামো

বাংলাদেশে কর্পোরেট নিবন্ধন নিম্নলিখিত আইন ও বিধিমালা দ্বারা পরিচালিত হয়:

  • কোম্পানি আইন, ১৯৯৪: প্রাইভেট লিমিটেড, পাবলিক লিমিটেড ও OPC গঠন, পরিচালনা ও বিলুপ্তির মূল আইন
  • কোম্পানি সংশোধন আইন, ২০২০: কমন সীল সংক্রান্ত বিধান পরিবর্তন ও ডিজিটালকরণ সংক্রান্ত আপডেট
  • পার্টনারশিপ আইন, ১৯৩২: পার্টনারশিপ ফার্ম নিবন্ধন ও পরিচালনার মূল আইন — ২০১৩ সালের সংশোধনীসহ
  • Societies Registration Act, 1860 (সংশোধিত ২০১৩): ব্যবসায়ী সমিতি ও পেশাদার সংগঠনের নিবন্ধনের জন্য
  • ফি গেজেট ২০২৩: RJSC-তে বিভিন্ন সেবার বিপরীতে হালনাগাদকৃত ফি শিডিউল
  • DBID নির্দেশিকা ২০২২: ডিজিটাল বিজনেস আইডেন্টিটি নিবন্ধনের পদ্ধতি নির্দেশক বিধিমালা

আইনে পরিবর্তন হলে RJSC-এর ওয়েবসাইটে নোটিশ প্রকাশিত হয়। সর্বশেষ বিধান সম্পর্কে নিশ্চিত হতে পেশাদার পরামর্শ নেওয়া উত্তম।

💳 সার্ভিস চার্জ

পেশাদার সহায়তার ফি কোম্পানির ধরন, শেয়ারহোল্ডার সংখ্যা ও কাজের জটিলতার উপর নির্ভর করে পরিবর্তিত হয়:

  • স্থানীয় প্রাইভেট লিমিটেড কোম্পানি: নাম ছাড়পত্র থেকে সার্টিফিকেট পর্যন্ত সম্পূর্ণ সেবায় একটি নির্ধারিত প্যাকেজ চার্জ — সরকারি ফি ও স্ট্যাম্প ডিউটি আলাদা
  • OPC গঠন: প্রাইভেট লিমিটেড কোম্পানির তুলনায় তুলনামূলক কম সার্ভিস চার্জ
  • পার্টনারশিপ ফার্ম: সবচেয়ে কম খরচে সম্পন্নযোগ্য, তুলনামূলক সহজ দলিল
  • বিদেশি শেয়ারহোল্ডারসহ কোম্পানি: এনক্যাশমেন্ট সার্টিফিকেট, BIDA নিবন্ধন ও অতিরিক্ত কাজের কারণে সার্ভিস চার্জ বেশি
  • প্যাকেজ সেবা: RJSC নিবন্ধন + TIN + ট্রেড লাইসেন্স + VAT/BIN একসাথে নিলে পৃথক পৃথকভাবে করার চেয়ে সাশ্রয়ী

সতর্কতা: অস্বাভাবিক দ্রুত বা অস্বাভাবিক কম দামে "গ্যারান্টিড" নিবন্ধনের প্রলোভন থেকে দূরে থাকুন। স্বচ্ছ ও প্রতিযোগিতামূলক মূল্যে স্বীকৃত পেশাদার সেবাদাতাকে অগ্রাধিকার দিন।

🔄 কর্পোরেট পরিবর্তন

নিবন্ধনের পর কোম্পানির যেকোনো গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পরিবর্তন হলে নির্ধারিত ফরমে ও সময়সীমার মধ্যে RJSC-কে অবহিত করতে হয়:

  • পরিচালক পরিবর্তন: নতুন পরিচালক নিয়োগ বা পুরনো পরিচালকের পদত্যাগের ক্ষেত্রে ফরম XII-এর মাধ্যমে RJSC-তে জানাতে হয়
  • রেজিস্টার্ড অফিস পরিবর্তন: নির্ধারিত ফরমে আবেদন করে নতুন ঠিকানার প্রমাণসহ জমা দিতে হয়
  • কোম্পানির নাম পরিবর্তন: নতুন নামের ছাড়পত্র নেওয়ার পর বিশেষ সভার প্রস্তাব পাস করে MOA সংশোধন করে RJSC-তে আবেদন করতে হয়
  • মূলধন বৃদ্ধি: অনুমোদিত মূলধন বাড়াতে বিশেষ সাধারণ সভার প্রস্তাব, MOA সংশোধন ও অতিরিক্ত স্ট্যাম্প ডিউটি পরিশোধ করতে হয়
  • শেয়ার হস্তান্তর: শেয়ার ট্রান্সফার ডিড সম্পাদনের পর কোম্পানির শেয়ার রেজিস্টার আপডেট করে RJSC-তে প্রতিফলন নিশ্চিত করতে হয়

সব পরিবর্তন সঠিক সময়ে RJSC-তে না জানালে বিলম্ব ফি ও আইনি জটিলতা তৈরি হয়।

🔒 কোম্পানি বিলুপ্তি

কোম্পানি আইন, ১৯৯৪ অনুযায়ী নিবন্ধিত প্রতিষ্ঠান বন্ধ করতে একটি আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া অনুসরণ করতে হয়:

  • স্বেচ্ছামূলক বিলুপ্তি (Voluntary Winding Up): শেয়ারহোল্ডাররা বিশেষ সভায় কোম্পানি বিলুপ্তির প্রস্তাব পাস করে একজন লিকুইডেটর নিয়োগ করেন যিনি সম্পদ বিক্রি ও দায় পরিশোধ করেন
  • ক্রেডিটর উইন্ডিং আপ: দেনাদার কোম্পানির ক্ষেত্রে পাওনাদারদের উপস্থিতিতে বিলুপ্তি প্রক্রিয়া
  • আদালতের মাধ্যমে: আদালতের নির্দেশে কোম্পানি বিলুপ্ত হতে পারে — এটি একটি দীর্ঘ ও ব্যয়বহুল প্রক্রিয়া
  • স্ট্রাইক-অফ আবেদন: কার্যক্রমহীন কোম্পানি নিজেই RJSC-কে রেজিস্টার থেকে নাম বাদ দেওয়ার আবেদন করতে পারে — এজন্য সব বকেয়া ফাইলিং সম্পন্ন থাকতে হবে
  • কর ছাড়পত্র: বিলুপ্তি চূড়ান্ত হওয়ার আগে NBR থেকে কর ছাড়পত্র নেওয়া প্রয়োজন

অনিয়মিত বা অসম্পূর্ণভাবে কোম্পানি ছেড়ে দিলে পরিচালকদের ভবিষ্যত ব্যবসায়িক কার্যক্রমে গুরুতর আইনি বাধা সৃষ্টি হতে পারে।

কোনো প্রশ্ন পাওয়া যায়নি।
অন্য শব্দ দিয়ে খুঁজুন বা আমাদের সাথে সরাসরি কথা বলুন।
Aeenx Footer

booked from Bangladesh Booking Notification

Aeenx Chatbot